চট্টগ্রামের রাউজান থানা এলাকার সনাতন সম্প্রদায়ের চার বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং তার মা স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে সালিশের মাধ্যমে বিচার চাইছেন—এমন দাবি করে একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি ছবি প্রচার করা হয়েছে। পরে বিষয়টি যাচাই না করেই অনেকে ছবিটি শেয়ার ও পুনঃপ্রচার করেন।
তবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে রাউজান থানা এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত ছবিটি রাউজানের কোনো ঘটনার নয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ছবিটি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের ২০ জুনের একটি ঘটনার ভিডিওর স্ক্রিনশট। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারসহ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল রাতে জেলা পুলিশের দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, একটি পুরোনো ও আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া ঘটনাকে ভিন্ন জেলার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে চট্টগ্রামের রাউজানের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, এ ধরনের অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা।
যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার কিংবা পুনঃপ্রচার না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।