কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভুল মানুষের হাতে চলে গেলে তা মানবজাতির জন্য ‘অস্তিত্বের ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। এআই প্রযুক্তি যাতে মানবতা, সমাজ ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি খাতের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসি জানায়, স্কটল্যান্ডের আয়ারশায়ারের ডামফ্রিজ হাউজে এক সম্মেলনে এআই নিয়ে কথা বলেন রাজা চার্লস। সমাজের কল্যাণে এআই কীভাবে ব্যবহার করা যায় এবং এর ভবিষ্যৎ প্রয়োগের জন্য অভিন্ন কিছু নীতি তৈরি করা সম্ভব কি না এ নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি সম্মেলনটির আয়োজন করেন।
সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের এআইমন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ, পোপের একজন উপদেষ্টা এবং এনভিডিয়া, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংও উপস্থিত ছিলেন।
রাজা চার্লস বলেন, এআই প্রযুক্তির নির্মাতারাই এখন সতর্ক করছেন এই প্রযুক্তির আরও ‘অন্ধকার সক্ষমতা’ তৈরি হতে পারে, এমনকি তা মানুষের জীবনহানির কারণও হতে পারে। তাই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়া এবং বিপর্যয়কর কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
রাজা চার্লস বলেন, প্রযুক্তি এগিয়ে নেওয়াই সংশ্লিষ্টদের একমাত্র দায়িত্ব নয়; বরং এআই যেন মানবতা, সমাজ ও প্রাকৃতিক বিশ্বের সেবায় থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। জেনসেন হুয়াং বলেন, এআইয়ের নিরাপত্তা ‘সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ’। কোনো পণ্য যথেষ্ট নিরাপদ না হলে সেটি বাজারে না ছেড়ে আরও উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ ও বিভিন্ন দেশ যাতে এআই ব্যবহারের সুযোগ পায়, সে জন্য উন্মুক্ত মডেলের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সম্প্রতি এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতর থেকেই একের পর এক সতর্কবার্তা এসেছে। কেউ কেউ মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সমালোচকদের একটি অংশ বলছে, এ ধরনের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আলোচনায় এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাবসহ বর্তমান সমস্যাগুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে।