উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলের লজ্জার পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও বড় হার এড়াতে পারল না বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬-০ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের দল।
ওসাকার ইয়ামার স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে একাদশে না থাকা ছয় খেলোয়াড়কে ফিরিয়ে শক্তিশালী দল সাজিয়েছিলেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। একাদশে জায়গা পান ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, রূপনা চাকমা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। তবু ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। বাংলাদেশের গোলমুখে ২০টি শট নেয় দক্ষিণ কোরিয়া, যার ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র শটটিও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। ১৬ মিনিটে কিম মিন-জির গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে জেয়ং ডা-বিন ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণ সামলাতে পারেনি বাংলাদেশের রক্ষণ। ৬৫ মিনিটে ছো-ইয়ু রি তৃতীয় গোল করেন। ৭৫ মিনিটে জি সো-ইয়োনের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। এরপর ৭৯ মিনিটে সিউল-জি হিউন পঞ্চম গোল করেন। তিন গোলের এই সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১৪ মিনিট। ম্যাচ শেষে কোচ বাটলার এভাবে ভেঙে পড়া নিয়ে শিষ্যদের সতর্ক করেছেন। সেইসঙ্গে এটাও মানছেন যে শক্তিধর দলের বিপক্ষে এমন ফলে ব্যথিত নন তিনি। ‘সত্যি বলতে ৬-০ ব্যবধানের হারটা একটু বেশিই কঠোর মনে হয়েছে। তবে আমরা এমন দল, যারা একটি গোল হজম করলে পরপর আরও একাধিক গোল খেয়ে বসি। কখনো আমরা রক্ষণভাগে খুব শক্ত থাকি, আবার কখনো আমাদের ফুটো তাঁবুর মতো অবস্থা হয়Ñ সহজেই গোল দিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ।’
ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার কো ইউ-জিন বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে ব্যবধান ৬-০ করেন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দুই ম্যাচে মোট ১৬টি গোল হজম করল। বিপরীতে কোনো গোল করতে পারেনি।
দুই ম্যাচ হারলেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। শেষ খেলায় ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারকে হারানো গেলে তৃতীয় সেরা দল হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ মিলতে পারে। মিয়ানমার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছে।