৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার দুই

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ এএম

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সময় নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্তবিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। সিআইডির মানবপাচার ইউনিটের (টিএইচবি) একটি দল গত বুধবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন টেকেরহাট বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বাঘা, মো. আমির হোসেন স্বপন।

মামলার এজাহারের তথ্য জানিয়ে ছুফি উল্লাহ বলেন, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে আটজন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেন। পরে নিহতদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলার ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র ভুক্তভোগীর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র ভুক্তভোগীদের  বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে। পরে অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে তাদের ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়া উপকূলে ট্রলারটি ডুবে গেলে আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, বর্তমানে মামলাটির তদন্তকার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি। মামলাটির তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় এর আগে গুরুদাস বারই এবং মো. মোতলেব মাতব্বর নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইতালির কথা বলে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া দুজন গ্রেপ্তার : আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ১১ জন ব্যক্তিকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে  দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম মেট্রো। গত বুধবার রাতে ঢাকার কদমতলী থানাধীন শনির আখড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের দুলাল দেওয়ান (৫৫) ও মাদারীপুর সদর উপজেলার মো. জামাল (৫০)।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকা মাতুয়াইলের বাসিন্দা মো. সাগরসহ ১১ জন ইতালি যাওয়ার জন্য বিভিন্ন আসামির সঙ্গে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা করে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী কয়েকজন ভুক্তভোগীকে অগ্রিম টাকা দেন। অন্যদের কাছ থেকেও পৃথকভাবে গ্রায় ২৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। তারা ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে সাগরপথে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে সেখান থেকে লিবিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে আটকে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।

পিবিআই জানায়, গত ৪ এপ্রিল ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ১১ ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানাধীন একে খান এলাকার হোটেল মেরিন ও হোটেল রোজ ভিউতে রাখা হয়। দুই দিন পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর ঘাটে নেওয়ার সময় হালিশহর থানার ওয়াপদা মোড় এলাকায় টহল পুলিশ গাড়িটি থামায়। এ সময় আসামিরা ভুক্তভোগীদের কক্সবাজার বেড়াতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেও জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা মানবপাচারের বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে আবদুর রহমান নামে একজনকে নয়টি পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তানজিম হোসেন সাগর পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সাগরের লিখিত এজাহারে হালিশহর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশে মামলা করা হয়। গত মে মাসে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো গ্রহণ করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত