মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে নৌযান থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়ের ইজারাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে চ্যানেল চার্জ আদায়ের সীমানা বাড়ানো হলেও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় পড়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাল্কহেড মালিক সমিতির নেতারা। তাদের দাবি নতুন এলাকা ইজারা থেকে বাদ দিতে হবে এবং বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সব ধরনের টোল বা চ্যানেল চার্জ আদায় বন্ধ রাখতে হবে।
ইজারার দরপত্র ও দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাল্কহেড মালিক সমিতি। নেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা কম মূল্যে এই ইজারা দেওয়া হয়েছে। নতুন এলাকা যুক্ত হওয়ায় যেখানে সরকারের রাজস্ব বহুগুণ বাড়ার কথা, সেখানে উল্টো বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এসব আপত্তির মধ্যেই গত ২১ আগস্ট পদ্মায় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, মারধর, চাঁদা দাবি, লুটপাট ও অস্ত্র প্রদর্শনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হরিরামপুর থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। দুই মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাল্কহেড মালিক সমিতির নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট নৌ-চ্যানেল প্রায় ৮ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইজারামূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ইজারামূল্য কমেছে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। একই সময়ে গোয়ালন্দ (দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া) এলাকা থেকে হরিরামপুরের পদ্মা নদী পর্যন্ত নতুন অংশ চ্যানেল চার্জ আদায়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মালিক সমিতির দাবি, নতুন যুক্ত হওয়া এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাল্কহেড চলাচল করে। প্রতি ঘনফুট বালুতে ৫০ পয়সা হারে চার্জ আদায়ের কারণে প্রতিটি বাল্কহেড থেকে আকারভেদে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। লেছড়াগঞ্জ বালুমহাল থেকে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি বাল্কহেড বালু পরিবহন করলে শুধু এই এলাকা থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ টাকা আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাদের হিসাব। তাদের দাবি, এই হিসাবে বছরে সম্ভাব্য আদায় প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বাল্কহেড মালিকদের প্রশ্ন, আগের বছরের প্রায় ৮ কোটি টাকা ইজারামূল্য যেখানে ছিল, সেখানে নতুন এলাকা সংযুক্ত করার পরও চলতি অর্থবছরে ইজারামূল্য ৫ কোটি ২৪ হাজার টাকা কীভাবে নির্ধারিত হলো। তাদের দাবি, আগের ইজারামূল্য অপরিবর্তিত রেখে নতুন এলাকা যুক্ত করা হলে ইজারা মূল্য বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়ার কথা।