সংসার ও জমজ সন্তান সামলে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধাক্রমে ২৪তম হয়ে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শারমীন খাতুন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে সারাদেশের ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
শারমীন কুষ্টিয়া কুমারখালি উপজেলার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শারমীনের সাফল্যের গল্পটি যেন অন্যদের থেকে আলাদা। তার পথটা শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতি, বই আর পড়ার টেবিলের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংসার, মাতৃত্ব এবং নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার এক দীর্ঘ লড়াই।
২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা পাস করার পর ২০১৬ সালে বিয়ে হয় শারমীনের। এরপর ২০২১ সালে তিনি জন্ম দেন যমজ দুই সন্তান। একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে দুই সন্তানকে দেখাশুনার পাশাপাশি চালিয়ে যান পড়াশোনা। নানা প্রতিকূলতা ও ব্যস্ততার মধ্যে তিনি প্রস্তুতি নেন বিজেএস পরীক্ষার।
শারমীন বলেন, বিজেএসের প্রস্তুতির শুরুতেও সন্তান ও সংসার সামলে পড়াশোনার জন্য আলাদা সময় বের করা তার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু মনের জেদ আমাকে থামতে দেয়নি। এমনকি হাসপাতালে অসুস্থ সন্তানকে রেখে বিজেএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা জানান তিনি।
আমার এই দীর্ঘ পথচলায় আমার স্বামী আশাদুল হক ছায়াসঙ্গী হিসেবে সবসময় পাশে থেকেছে। উচ্চশিক্ষার প্রতি আমার আগ্রহকে সবসময়ই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষজন উৎসাহ ও সহযোগিতাও তার সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান শারমীন।
শারমীন বলেন, অনার্স-মাস্টার্সের গণ্ডি পেরিয়ে শুরুতে বাচ্চা ও সংসার সামলে বিজেএসের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারিনি। কিন্তু মনের তীব্র জেদ ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।'
আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, 'আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো ফল করছে, এবারও আরও ভালো করেছে। এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে পেশা হিসেবে নিতে চায়, তাদের গাইডলাইন দেওয়া ও ভিত্তি শক্ত করতে আমরা কাজ করতে বিভাগ কাজ করবে।'
১৮তম বিজেএসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ১ জন শিক্ষার্থী সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
আইন বিভাগের সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ ইসলাম ও শফিক শোভন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ন কবির ও সালমা খাতুন, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শারমিন খাতুন, শাকির আলম, মেহবুবা মোহিনী, মো. রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, ইয়াসমিন খাতুন, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিখন ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন।
ল এন্ড ল্যান্ড এ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ও এ এইচ হাবিব, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নুসরাত জাহান তানী ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রুকনুজ্জামান রায়হান এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ।
পানিতে ডুবে অসুস্থ ইবি শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি