হেডমাস্টার ক্লপের শৃঙ্খলার বিপরীতে জাভির ক্রুইফ দর্শনের লড়াই

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

উয়েফা নেশনস লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও ফুটবলপ্রেমীদের নজর দুই দলের নতুন ডাগআউটে। একপাশে লিভারপুলের সাবেক সফল বস ইয়ুর্গেন ক্লপের কড়া হেডমাস্টারসুলভ শাসন, আর অন্যপাশে জোহান ক্রুইফের চিরন্তন পজিশনভিত্তিক দর্শনে বিশ্বাসী বার্সেলোনার সাবেক মাস্টারমাইন্ড জাভি হার্নান্দেস। আসন্ন এই ম্যাচে দুই কোচেরই প্রথম ডাগআউট অভিষেক হওয়ায় ম্যাচটি রূপ নিয়েছে এক জমজমাট ট্যাকটিক্যাল থ্রিলারে।

জার্মানির প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজের এনার্জি ও ট্যাকটিক্যাল ভাবনার পাশাপাশি দলের ভেতরে আমূল পরিবর্তন এনেছেন ক্লপ। ঐতিহ্যগত শিথিলতা ভেঙে জাতীয় দলের ক্যাম্পকে এক প্রকার কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসেছেন তিনি। দলের ভেতর কড়া নিয়ম চালু করার মাধ্যমে জার্মান শিবিরকে যেন এক কঠোর হেডমাস্টারের ক্লাসরুমে পরিণত করেছেন এই জার্মান বস। 

খাবার টেবিলে নির্দিষ্ট সময়ে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে ম্যাচদিনের জিম ও প্রি-ম্যাচ সেশনগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। এমনকি হোটেলের ভেতরে পেশাদার হেয়ারকাট বা ব্যক্তিগত বিলাসিতা নিষিদ্ধ করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, জাতীয় দলের ক্যাম্প কোনো বিশ্রামের জায়গা নয়, বরং এটি পারফরম্যান্স দেখানোর পবিত্র পেশাদার কর্মক্ষেত্র। 

এই কড়া নিয়ম ও ৪৪ সদস্যের বিশাল স্কোয়াড নিয়ে তিনি যখন দল সাজাচ্ছেন, তখন ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবার নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ক্লপ বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো দিক হলো আমাদের দুজনের পরিস্থিতি একদম একরকম। আমরা সোমবার দেখা করেছি এবং বৃহস্পতিবার ম্যাচ খেলছি। আর কোচ হিসেবে আমরা খেলোয়াড়দের টেলিভিশন থেকেই বেশি চিনি।’

জাভির চেয়েও নাকি ডাচ খেলোয়াড়দের বেশি চেনেন ক্লপ। এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, জাভি যতটা না ডাচ খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে চেনে, আমি তার চেয়ে বেশি চিনি। এটা কোনো সুবিধা কি না আমি জানি না, তবে এটি একটি বাস্তব সত্য।’ 

অন্যদিকে, রোনান্ড কোম্যানের বিদায়ের পর ডাচদের ডাগআউটে নতুন যুগের সূচনা করতে যাওয়া জাভির জন্য শুরুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও তার ফুটবল দর্শন খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য দারুণ এক সুযোগ। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জোই ভিরমানকে দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরিয়ে এনে এবং ফ্রেঙ্কি ডি জং ও ডনিয়েল মালেনের মতো তারকাদের ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার অপেক্ষায় রেখে মিডফিল্ডের গভীরতা বাড়াচ্ছেন জাভি। 

বিশেষ করে, ডাচ ফুটবলের জনক জোহান ক্রুইফের আদর্শ ও পজিশনভিত্তিক দর্শনে আজীবন বিশ্বাসী জাভি যখন নেদারল্যান্ডসের মতো ঐতিহ্যবাহী ডাচ দলের প্রধান কোচ, তখন তা এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক মেলবন্ধন তৈরি করে। কারণ ক্রুইফের সেই চিরন্তন ডাচ দর্শনই তো জাভির কোচিং ক্যারিয়ারের মূল ভিত্তি। 

তবে অতীতের স্মৃতি হাতড়াতে নারাজ জাভি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি অতীত নিয়ে কথা বলি না।’ অ্যামস্টারডামের জোহান ক্রুইফ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণে ঘরের মাঠে ২০২৩ সালের পর থেকে অপরাজিত থাকার দুর্দান্ত রেকর্ডও বড় এক স্বস্তি ডাচদের জন্য।

মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। এখন পর্যন্ত তারা মুখোমুখি হয়েছে ৪৮ বার, যেখানে জার্মানি জিতেছে ১৮ বার, নেদারল্যান্ডস ১২ বার আর ড্র ১৮ ম্যাচ। ক্লপের কড়া অনুশাসন আর জাভির ক্রুইফ দর্শনের মিশেলে ঐতিহ্যের এই পরিসংখ্যান আজ রাতে কোন নতুন ঠিকানায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত