ধ্বংসস্তূপেই খোলা আকাশের নিচে শিশুদের টিকাদান

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০১ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের 'রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার' নামের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র মধ্যরাতে লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এর স্বাস্থ্যকর্মীরা খোলা আকাশের নিচে বসেই টিকা দিচ্ছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। 

এদিকে, ওই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান  বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা সরকার বা সিটি করপোরেশন চায় না।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গতকাল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। তবে রাতে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জায়গাটি নিয়ে কোনো সমিতি ও এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মধ্যে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে।

ভাঙচুরের পর টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা যাবে কি না, জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, সেখানে ইতিমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত