যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় নতুন করে ডেমনস্ট্রেশন বা ডেমো ক্লাস যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগের যোগ্যতায় আংশিক কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে চলমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অন্যান্য বিষয়গুলো বহাল রাখা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য।
তিনি জানান, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন করে ডেমনস্ট্রেশন যুক্ত করা এবারের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অন্যতম পরিবর্তন। এখন থেকে প্রার্থীদের ডেমো ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদানের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। তবে শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকার বিদ্যমান শর্ত বহাল রয়েছে।
সিন্ডিকেট জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো প্রার্থী স্নাতক (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করলে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম হলে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ বাধ্যতামূলক। এই পরিবর্তন শুধু অনার্স বা মাস্টার্স পরীক্ষায় যারা শুধু প্রথম স্থান অর্জন করবেন, সেই সকল প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া দেশের বাইরে থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সহযোগী ও অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাক্রমের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
সিন্ডিকেটের ওই সদস্য জানান, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে যোগ্য কোনো প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোনো পরীক্ষাতেই সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্লানিং কমিটি সুপারিশ করতে পারবে। পরে সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ থাকবে।
নতুন নীতিমালায় প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসির সমষ্টিগত জিপিএ ন্যূনতম ৯ এবং মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৮ দশমিক ৫ হতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ থাকতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষক পদে আবেদনকারী থিসিস গ্রুপের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার পাবে।
এবিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো শিক্ষক নিয়োগ। প্রশাসন ও উপাচার্যের নৈতিক অবস্থান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তাই শুরু থেকেই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং গত ১৭ বছরের শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না। কোনো প্ররোচনা বা সুপারিশ কাজে আসবে না; প্রার্থীর নিজের যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তিনি শিক্ষক হওয়ার যোগ্য কি না। সম্প্রতি আইবিএর নিয়োগেও আমরা ডেমনস্ট্রেশন নিয়েছি এবং অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছি।’