সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অচল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। চলমান এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এবার নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে এই লাল কার্ড দেখান তারা। এর আগে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ তার কার্যকালে ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল। অধ্যাপক সায়েমকে পুনরায় নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এই 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অনলাইনে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে রাত জেগে পালাক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পাহারা দিচ্ছেন তারা। ক্যাম্পাসে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, একাডেমিক ক্ষতি এড়িয়ে ক্লাসে ফিরতে চান তারা, তবে প্রিয় শিক্ষককে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
এদিকে চলমান এই আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে টানা পাঁচ দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে এবং সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির সুরাহা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আগামী রবিবার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সোমবার রাতে তাকে সরিয়ে কুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।