ডেঙ্গুতে মারা গেলেন মুগদা মেডিকেলের চিকিৎসক আঁচল রায়

এফসিপিএস ও এমআরসিপি পরীক্ষায় সাফল্যের পর ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী চিকিৎসক আঁচল রায়, ডেঙ্গুতে হঠাৎ থেমে গেল তার পথচলা।

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

পেশাগত জীবনে সাফল্যের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়। মাত্র ৩০ বছর বয়সে ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএস মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি এমআরসিপি (যুক্তরাজ্য) পরীক্ষার প্রথম পর্বও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোববার সকালে মারা গেছেন এই চিকিৎসক।

ডা. আঁচল রায় ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম চার দিন তিনি বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

তার স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, পঞ্চম দিনে আঁচলের প্লাটিলেটের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিপ্লব জানান, প্রথমে আঁচলকে হাসপাতালের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।

আঁচলের পদায়ন ছিল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে। তবে সম্প্রতি তাকে একই হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান তার স্বামী। চিকিৎসাসেবার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, আঁচল এফসিপিএস মিড-টার্ম ও এমআরসিপি পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তারা খুবই আনন্দিত ছিলেন। তার ভাষ্য, আঁচলের সাফল্য নিয়ে তিনি গর্বিত ছিলেন।

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এ কর্মরত বিপ্লবের সঙ্গে আঁচলের পরিচয় হয়েছিল নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পড়ার সময়। তিন বছরের সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের বয়স হয়েছিল মাত্র ১৭ মাস।

আঁচল ঢাকায় বেড়ে উঠলেও তার দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। অন্যদিকে বিপ্লবের বাড়ি বরিশালে। ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন আঁচল।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রবিবার  সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১২৮ জন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত