বেলকুচিতে বন্ধ অটিজম স্কুল: থমকে গেছে ১০৮ শিশুর মানসিক বিকাশ, বিপাকে শিক্ষকরা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বন্ধ হয়ে পড়েছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের একমাত্র বিদ্যাপীঠ ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে উপজেলার ১০৮ বিশেষ শিশু।

দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি বন্ধ থাকায় ঘরবন্দী শিশুদের মানসিক বিকাশ থমকে গেছে। একই সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবহেলিত ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়।

তৎকালীন পৌর মেয়র ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় শিক্ষা কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গেই চলছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অজ্ঞাত কারণে হুট করেই বিদ্যালয়টির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

​অভিভাবকদের অভিযোগ, সমাজের মূলধারা থেকে পিছিয়ে থাকা এসব শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের একমাত্র ক্ষেত্র ছিল এই স্কুলটি। সহপাঠীদের সান্নিধ্য ও বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছিল। তবে প্রায় দু’বছর ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা একঘেয়ে ও গৃহবন্দী জীবনযাপন করছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক মেলামেশার সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।

​স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, নানামুখী প্রশাসনিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দিলে আমরা শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে বাধ্য হই। বর্তমানে স্কুলের সকল কার্যক্রম বন্ধ। আমাদের শিক্ষকরাও দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় অলস ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
​
​স্কুলটির ভবিষ্যৎ ও পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান জানান, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। আমরা সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেছি। এখন স্কুলটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে।

​বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এসব কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে দ্রুততম সময়ে স্কুলটি পুনরায় চালু করার জন্য বিনীত আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজ।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত