নৌপথে অবৈধ সোঁতি জাল ও বাঁশের বানা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

নাটোরের সিংড়া উপজেলার আত্রাই নদীতে দীর্ঘদিন পর আবারও অবৈধ সোঁতি জাল ও বাঁশের বানা দিয়ে মাছ শিকারের মহোৎসব শুরু হয়েছে। উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বিলদহর-ভাটোপাড়া এবং কলম ইউনিয়নের কালিনগর এলাকায় নদীর বুক চিরে আড়াআড়িভাবে বাঁশের কাঠামো ও দীর্ঘ জাল পেতে রাখা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ যেমন থমকে গেছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ নৌকা ও নৌযান চলাচল।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নদীর বিশাল অংশজুড়ে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে দীর্ঘ সোঁতি জাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এই স্থাপনা থাকায় প্রতিনিয়ত যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানগুলোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাঁশ ও জালের এই প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে চলতে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, নদীর ওপর এভাবে বাঁশ ও জাল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবারও নদীতে অবৈধভাবে সোঁতি জাল বসানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে এসব কাঠামোর কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বিচারে মাছ ধরার কারণে মাছের প্রজনন ও নদীর জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রভাবশালী চক্র দিনের পর দিন এই নিষিদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মৎস্যজীবীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন। নদী ও তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত এই অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা এখন সময়ের দাবি। এদিকে শেরকোল-রানীনগর সøুইসগেটের নিচের অংশেও অবৈধভাবে বানা দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জোলারবাতা থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার নদীপথে বাঁশের বানা দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ওই অংশে বিলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আত্রাই নদী এলাকার মানুষের নৌ-যোগাযোগ, জেলেদের মাছ ধরা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই অবৈধ সোঁতি ও বানা দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি এসএম রাজু আহমেদ বলেন, নদীতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে নৌকা চলাচল বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নৌকা চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ ও প্রতিবন্ধকতামূলক সোঁতিজাল অপসারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, অবৈধ সোঁতিজালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলার পাঁচটি স্থানে বসানো অবৈধ সোঁতি জাল উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি স্থানগুলোর বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত