ভোগান্তির তিন বছর

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

ঘাট ইজারা দিয়ে বছরের পর বছর রাজস্ব আদায় করছে সরকার। অথচ সেই ঘাটে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারে নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে সড়কটি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর ৯ নম্বর বিএসসি ঘাটে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। অনেক জায়গায় ধসে গেছে সড়কের মূল অংশই। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলার উপায়ও আর নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএসসি ঘাট দিয়ে কর্ণফুলীবাসীর চট্টগ্রাম শহরে পারাপারের একমাত্র পথ হচ্ছে  সড়কটি। কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা, ডাঙ্গারচর ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বিএসসি ঘাট সংলগ্ন এই সড়কটি। প্রতিদিন শহরমুখী শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি চরমভাবে বেহাল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, পায়ে হেঁটে ঘাটে যাওয়ার ন্যূনতম পরিবেশও সেখানে নেই। ফলে চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট গর্তের গভীরতা ও বিস্তৃতি দিন দিন বাড়ছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। আবার কোথাও প্রচ- রোদেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ঘাটে যাওয়ার নির্ধারিত সড়কটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় শহরমুখী শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে একটি শিল্পকারখানার জায়গার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পথটি কোনো সরকারি বা নির্ধারিত জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা নয়। তবুও মূল সড়ক ব্যবহার করতে না পারায় বাধ্য হয়ে তারা বিকল্প পথটি ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশের জায়গাটিতে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলো কিংবা স্থায়ীভাবে যাতায়াতের কোনো ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে সেখানেও কাদা ও পানি জমে গেলে সেটাও তখন চলাচল অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, গার্মেন্টসে কর্মরত নারী শ্রমিক, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ওই বিকল্প পথেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে কর্মস্থলমুখী শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

ঘাট ব্যবহারকারী এক গার্মেন্টসকর্মী বলেন, বছরের পর বছর সড়কটির এই দশা, সবাই দেখেও যেন না দেখার ভান করে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়। তখন কোনটা রাস্তা আর কোনটা গর্ত বোঝা যায় না। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে ঘাট পর্যন্ত যাব ওই অবস্থাও নেই।

বিএসসি ঘাটের ইজারাদার আব্দুল কাদের জানান, আমি দীর্ঘদিন সিটি করপোরেশন থেকে এই ঘাট ইজারা নিয়ে পরিচালনা করছি। প্রথম দিকে রাস্তাটি ঠিক ছিল তখন এই রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ ঘাট পারাপার করতেন। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী। যার ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ধরে একটি শিল্পকারখানার জায়গার ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। 

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান বলেন, জুলধা ডাঙ্গারচর বিএসসি ঘাট সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনাদের মাধ্যমে আবগত হলাম। সড়কটি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত