আহমদ রফিক আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

স্বাধীনতার পর বড় ব্যবসায়ী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আহমদ রফিক সেদিকে পা বাড়াননি, বরং লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাকেই আঁকড়ে ধরেছেন। বামপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে তার গভীর যুক্ততা ও কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংযোগ থাকলেও পার্টির সংকীর্ণ আনুষ্ঠানিকতা তাকে পীড়িত করেছিল। তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে ওঠেননি, তবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক।

তিনি বলেন, আহমদ রফিক সবসময় নিজেকে নিজেই অতিক্রম করে গেছেন। পেশায় ডাক্তার হলেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে বছরের পর বছর হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে এবং তিনি ঠিকমতো পরীক্ষাতেও অংশ নিতে পারেননি। স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’  প্রতিপাদ্যে  এ স্মরণসভার আয়োজন করে খামখেয়ালী সভা।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিক তরুণদের বেশি ভালোবাসতেন। তিনি তরুণদের নিয়ে চলতে পছন্দ করতেন। আহমদ রফিক অনেক সম্ভাবনাময় তরুণকে বই উৎসর্গ করেছেন।

আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সাদী বলেন, ১৯৪৭ সালে হরগঙ্গা কলেজে অধ্যয়নকাল থেকেই আহমদ রফিক ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি ভূমিকা রাখেন এবং শহীদ মিনারের প্রথম নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনায় সক্রিয় অবদান রাখেন। বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টিকারী বহু ঘটনার প্রথম দিকের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এত অবদান থাকা সত্ত্বেও আহমদ রফিক কখনো নিজের ঢোল নিজে পেটাননি কিংবা আত্মপ্রচারে লিপ্ত হননি। পঞ্চাশের দশকে সমসাময়িকরা যখন কবিতা লিখছিলেন, তিনি ’৫৮ সালেই অনন্য প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শিল্প সংস্কৃতি জীবন’ প্রকাশ করে চিন্তাশীলতার পরিচয় দেন।

ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রগবেষক হিসেবে আহমদ রফিকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলন নিয়েও তিনি কাজ করেছেন। তার জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই খামখেয়ালী সভার এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আহমদ রফিকের লেখা কবিতা এবং রবীন্দ্রনাথের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যেপাধ্যায়। সংগীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত শিল্প মঞ্জুয়ারা রশিদ।

খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম বলেন, হাতিরপুলে খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্রসংগ্রহশালায় আহমদ রফিক কর্নার করেছি। এ ছাড়া আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা নামের একটি কোর্স পরিকল্পনা করেছি। সেখানে গুণীজনরা ক্লাস নেবেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান, বিটিভির সাবেক উপ-মহাপরিচালক ফরিদুর রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত