মেডিকেল অক্সিজেনের নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬’। ৩ ও ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত দুই দিনের এ সম্মেলনে বৈজ্ঞানিক অধিবেশনের পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্কের আয়োজনে এবং আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেসের (চিপস) সহযোগিতায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জার্নি টু অ্যাচিভ, ইকুইটেবল অ্যাকসেস টু মেডিকেল অক্সিজেন’।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আইইউবির মাল্টিপারপাস হলে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটেই একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে খুব দ্রুত অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিতভাবে মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা তৈরি করা যায়। ক্রমান্বয়ে আগামী অর্থবছরে এটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
আইইউবি কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. মুহিত আরও বলেন, অক্সিজেন থেরাপিকে একটি অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৬-২০৩০ সালের অক্সিজেন রোডম্যাপ নিয়ে সরকার কাজ করছে। এবারের অক্সিজেন সামিটে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত, গবেষণা ও ঘোষণাপত্র সেই রোডম্যাপ তৈরিতে বিশেষভাবে কাজে আসবে।
নীতিনির্ধারণী সংলাপে আরও অংশ নেন রেডিয়েন্ট ফার্মার চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী; বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) সভাপতি অধ্যাপক সায়েবা আখতার; এসওএসবির মহাসচিব অধ্যাপক মো. মনির হোসেন খান; এপিবির সভাপতি অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ আরাফাত; আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান।
এ ছাড়া অংশ নেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. শামস আল আরেফিন; বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক ডা. কে এস বেন্নূর; সোমালিয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক প্রতিনিধি ডা. এস কে মামুনুর রহমান মালিক; জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম আসিব নাসিম এবং ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন।
৩ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে স্বাগত বক্তব্য দেন চিপসের পরিচালক ডা. এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন। সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক আহমেদ এহসানুর রহমান। বক্তব্য দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব হেলথ ডা. মালালয় আহমাদজাই। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ম. তামিম।
প্রথম দিনে ‘মেডিকেল অক্সিজেন নিড, প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি অ্যান্ড সাপ্লাই’ শীর্ষক প্রথম বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন। সহসভাপতি ছিলেন বারডেমের অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা এবং সঞ্চালনা করেন চিপসের পরিচালক ডা. এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন ডা. আহমেদ এহসানুর রহমান, ডা. মো. আক্তার হোসেন, ডা. মো. আলী সাইফুল্লাহ সাজিব, ফরিদ শিকদার, রেদওয়ান আল হামিদ, শোরাব উদ্দিন আহমেদ, মারুফ হাসান, ডা. থান চো, ডা. হাসনাইন আহমেদ, প্রকৌশলী এম এন নাশিদ রহমান ও ডা. সুরাইয়া জেমি।
দ্বিতীয় বৈজ্ঞানিক অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘মেডিকেল অক্সিজেন এডুকেশন, রিসার্চ, মেজারমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন’। এতে সভাপতিত্ব করেন চিকিৎসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। সহসভাপতি ছিলেন ডা. শামস আল আরেফিন এবং সঞ্চালনা করেন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ডা. আহমেদ এহসানুর রহমান। বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা, আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ডিন ডা. কামরান উল বাছেত, ডা. সাবিনা আশরাফী লিপি, ডা. আবু আহাম্মদ আল মামুন, মো. হাসিব মামুন, মোস্তফা আশরাফুজ্জামান, ডা. সাবিত সাদ শফিক, ডা. সাব্বির আহমেদ, ডা. কাজী সেফায়েত এনাম ও ডা. মানাল মিজানুর রহমান।
প্রথম দিনের সমাপনী বক্তব্য দেন চিপসের পরিচালক ডা. এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন। একই দিন মাল্টিপারপাস হলে ‘মিট দা অক্সিজেন চ্যাম্পিয়নস’ শীর্ষক একটি বিশেষ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন শামস আল আরেফিন, মোহাম্মদ জোবায়ের চিশতি ও ডা. এস কে মামুনুর রহমান মালিক। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার।
দুই দিনের সম্মেলনে সরকারি কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা মেডিকেল অক্সিজেনের প্রাপ্যতা, মান, নিরাপত্তা, উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে দেশে মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।