নিত্যপণ্য ও এলপি গ্যাসের বাজারে অভিযান, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ এএম

ফল, ভোজ্যতেল ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রাজধানীসহ ৩০ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সঠিক ওজন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করাই এ তদারকির উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপি গ্যাস ডিলার পয়েন্টেও অনিয়ম ধরা পড়ে। ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাজী আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা, প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ সময় কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকার জব্দ করা হয়।

সরবরাহ সংকটের মধ্যে অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির দামও বাড়িয়েছে সরকার। রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। সেপ্টেম্বরে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা এবং ক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত