রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ বিচারহীনতার অবসান চায় ডুজা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। 

একইসঙ্গে হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ডুজা দপ্তর সম্পাদক এইচ এম খালিদ পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি ও সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যানুযায়ী, রবিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়, সংবাদ সংগ্রহের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম ও ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তীসহ অন্তত দশজন ছাত্রদল নেতা-কর্মী অংশ নেয়। ছাত্রদলের এই হামলায় রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, রড, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দেখা যায়। ছাত্রদল কর্মীরা সাংবাদিকদের লাঠি দিয়ে মারধর করে, কয়েকজনের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পরে ঘটনাস্থলে আসা অন্য সাংবাদিকদেরও বেধড়ক মারধর করে।

ছাত্রদলের এই বেপরোয়া হামলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান, দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ডুজা নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের এই হামলার দ্রুত বিচার দাবি করছি। সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের এই হামলার পরও যদি এর বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ সদস্য ছাত্রদলের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন এখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা হয়নি এবং দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশও কোনো মামলা গ্রহণ করেনি। 

নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এ ধরনের বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতা বিচারকে বিলম্বিত করার পাশাপাশি হামলা, ভয়ভীতি ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া মানে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি আরও বাড়ায়। বিচারহীনতার এই দায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

ডুজা নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাইয়ের পর মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার বিচার না হওয়া এবং হামলাকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হওয়াটা সেই প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হুমকির অভিযোগ সামনে আসছে। এসব ঘটনায় দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়বে, তেমনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও বাধাগ্রস্ত হবে।

তাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত