রাবিতে হামলা: আসামি অজ্ঞাতনামা, ‘ফুটেজ গায়েব’

‘জুলাই-পরবর্তী রাবিতে পেশিশক্তির পুনর্জন্ম মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন যদি ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও মদদ দেওয়া বন্ধ না করে, তবে শিক্ষার্থীরা আবারও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি, অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা এবং সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সুনির্দিষ্ট পরিচয় থাকা সত্ত্বেও হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের নাম বাদ দিয়ে ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলা দায়ের এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
 

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-২-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
একই সঙ্গে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে হামলায় জড়িতদের সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ ও পরিচয় থাকা সত্ত্বেও আসামিদের নাম উল্লেখ না করে মামলা করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্যাম্পাসের সাংবাদিকেরা।

এদিকে হামলাকারী ছাত্রদল নেতাদের আড়াল করতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। 
 
সোমবার সকালে সাংবাদিকেরা ফুটেজ চাইতে গেলে প্রভোস্ট অস্বীকৃতি জানান। প্রমাণের সুরক্ষায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা হলের হার্ডডিস্ক খুলে নিলেও পরবর্তীতে তাতে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন করে রাকসু। ছবি: প্রতিনিধি
 
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের রক্ষা করতেই প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিতভাবে ফুটেজ ডিলিট করা হয়েছে। যদিও হল প্রভোস্ট এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, সংস্কার কাজের জন্য সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সকালে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে সংহতি জানিয়ে জিয়া হল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সীমান্ত বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।’
 

বিকালে প্যারিস রোডে মানববন্ধন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। মানববন্ধনে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী রাবিতে পেশিশক্তির পুনর্জন্ম মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসন যদি ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকেও মদদ দেওয়া বন্ধ না করে, তবে শিক্ষার্থীরা আবারও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জিয়া হলের সামনে দায়িত্ব পালনকালে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের অতর্কিত সশস্ত্র হামলায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর-এর আরিফ উজ জামান কোরবান, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুলসহ চার সাংবাদিকসহ ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত