রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ বা প্রাণঘাতি মহামারি নিয়ে গবেষণারত একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
রুশ গণমাধ্যম গত সপ্তাহে জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মৃত ওই নারীর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, দেশটির ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা রসপোট্রেবনাদজোর এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরকুতস্কভিত্তিক ‘অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব সাইবেরিয়া অ্যান্ড দ্য ফার ইস্ট’-এর এক কর্মীর 'অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়া' শনাক্ত হয়েছিল।
রসপোট্রেবনাদজোর আরও জানিয়েছে, ওই রোগীর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার পেশাগত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অণুজীবের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরকুতস্কে প্রায় ২০০ মানুষকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা 'সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)' এবং অন্যান্য আন্তঃসংস্থা অংশীদারদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, 'রাশিয়ার কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সঠিক তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানাই।'
নিউমোনিক প্লেগ 'এরসিনিয়া পেস্টিস' নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই জীবাণু সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মধ্যে পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্লেগ অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।