ছিনতাইয়ের পর পোশাককর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

চার বছর আগে রাজধানীর মিরপুরে অভিনব কায়দায় সায়মন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ছিনতাই এবং তাকে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। তিন আসামির প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া ছিনতাইকৃত মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামি সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর পোশাককর্মী সায়মন মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকায় অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মীর সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যাচ্ছিলেন। কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আসামিরা তাদের ছোট ভাইকে সায়মন মারধর করেছে বলে তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে সায়মনকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে সায়মনকে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। আসামি ইউসুফ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইকবাল ও মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সুজনের কাছে ২২০০ টাকায় মোবাইল ফোন বিক্রি করে বলে পুলিশকে জানায়। ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত