ধোঁয়াশায় ঢাকা আকাশ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

কুয়াশা নয় ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকছে ভোরের আকাশ। আর এই ধোঁয়াশা কিন্তু শীতের কারণে হচ্ছে না। ঢাকাসহ দেশের নগরগুলোর বাতাসে অতিরিক্ত পরিমাণে ধূলিকণা ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। সেই ভাসমান ধূলিকণাকে আশ্রয় করে জলীয়বাষ্প ভেসে বেড়ায় এবং সকালের দিকে তা কুয়াশার মতো দেখাচ্ছে। এই কুয়াশায় কিন্তু শীতের আমেজ থাকছে না, সকালের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়াশা কেটে যাচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এই ধোঁয়াশা বা কুয়াশা কেন হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে কথা হয় একাধিক আবহাওয়াবিদের সঙ্গে। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, দিনের বেলা তাপমাত্রা বেশি থাকছে এবং রাতে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্প জমাট বেঁধে কুয়াশায় রূপ নিচ্ছে। এর জন্য সকালের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। আর এই জলীয় বাষ্পগুলো মূলত ভেসে বেড়ায় বাতাসে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালিকনা বা ধূলিকনাকে ভর করে। এজন্যই আমরা সকালে কুয়াশার মতো ধোঁয়াশা দেখতে পাই। পরে সূর্যের আলো বেড়ে গেলে তা কেটে যায়।’

গত এক সপ্তাহে ঢাকা শহরের তাপমাত্রার উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে ড. ওমর ফারুকের এই বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। উপাত্তে দেখা যায়, ঢাকা শহরের গত ১ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৬টায় আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। ৩ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ও সর্বনিম্ন ছিল ২৭ দশমিক ৪ এবং আর্দ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ, গত ৭ অক্টোবর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ও সর্বনিম্ন ছিল ২৩ দশমিক ৫ এবং আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। গতকাল ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ও সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৫ এবং আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। এদিকে ঢাকা শহরে অক্টোবর মাসে গড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকার কথা ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া আর্দ্রতা থাকার কথা ৭৮ শতাংশ।

উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব দিনই সকাল ৬টায় বাতাসে আর্দ্রতার (জলীয়বাস্পের পরিমাণ) ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল এবং দিনের সর্বোচ্চ ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান বেশি ছিল। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান বেশি হওয়ার কারণেই মূলত সকালের দিকে আমরা কুয়াশা দেখতে পাচ্ছি এবং এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া।

তবে সকালের আকাশে কুয়াশার আদলে ধোঁয়াশা দেখা গেলেও এতে শীতের আমেজ নেই বলে উল্লেখ করেন ৪৫ বছরের উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করে ‘চেঞ্জেস ক্লাইমেট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করা আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, সকালে আমরা কুয়াশা দেখতে পেলেও এতে কিন্তু শীতের অনুভব নেই। মূলতঃ শহরাঞ্চলের বাতাসে ভেসে বেড়ানো ধূলিকণা ও বালিকনার ওপর জলীয়বাষ্পগুলো ভেসে বেড়ায়। সকালের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে বলে ভূ-পৃষ্ঠের ২০ থেকে ৫০ উচ্চতার মধ্যে এসব ধুঁয়াশা দেখা যায়। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো হারিয়ে যায়।

এ ধরনের আবহাওয়া কতদিন থাকবে? এই প্রশ্নের জবাবে ড. বজলুর রশিদ বলেন, আগামীকাল (শুক্রবার) বাংলাদেশের টেকনাফ প্রান্ত থেকে মৌসুমী বায়ু বিদায় নিতে যাচ্ছে। এতে বাতাসের গতিবেগ ও দিকের একটি পরিবর্তন বিরাজ করছে। এ কারণেও তাপমাত্রার পার্থক্য হতে পারে। শুধু একটি কারণে এমন আবহাওয়া নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এমন আবহাওয়া আরও সাত থেকে আট দিন থাকতে পারে। মৌসুমী বায়ু বিদায়ের পর আবহাওয়া সেট হতে একটু সময় লাগতে পারে।’

তবে এখনই শীত আসছে না বলে মন্তব্য করেন আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, মৌসুমী বায়ু বিদায়ের পর শীতের আবহ শুরু হতে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে আগামী সপ্তাহে বৃষ্টি হবে জানিয়ে আবহাওয়া তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর দেশের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। আর বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে আসবে তখন ঠা-া লাগতে পারে।

উল্লেখ্য, গ্রীষ্মের শেষে জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশের টেকনাফ প্রান্ত দিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। আবার এই বায়ু অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিদায় নেওয়ার পর শীতের আগমনের প্রস্তুতি শুরু হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত