সাহাবিদের নিয়ে সমালোচনা নয়

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ এএম

সাহাবায়ে কেরাম হলেন নবীজি (সা.)-এর সঙ্গী। তারা নবীজি (সা.)-এর কাছ থেকে সরাসরি ইসলাম শিখেছেন। তার সঙ্গে ইমানের পথে চলেছেন। দ্বীনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের জীবনেই ফুটে উঠেছে ইমান, ভালোবাসা, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের অসংখ্য দৃষ্টান্ত। তাই সাহাবিদের নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের ভাষা হওয়া উচিত সম্মানজনক।

মহান আল্লাহ সাহাবিদের প্রশংসা করেছেন। মুহাজির ও আনসারদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী, যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।’ (সুরা তওবা ১০০)

সাহাবিদের মর্যাদা সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার সাহাবিদের গালি দিও না। তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পর্বত পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তবুও তাদের এক মুদ (প্রায় ৬০০ গ্রাম)-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না।’ (সহিহ বুখারি ৩৬৭৩)

এই হাদিস একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ বা অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ তারা এমন একটি প্রজন্ম, যারা নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে দ্বীনকে গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন।

সাহাবিদের ভালোবাসা শুধু তাদের নামের প্রতি সম্মান দেখানোর বিষয় নয়। তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়াও ভালোবাসার অংশ। আবু বকর (রা.)-এর ইমান ও সত্যনিষ্ঠা, ওমর (রা.)-এর ন্যায়পরায়ণতা, ওসমান (রা.)-এর লজ্জাশীলতা, আলী (রা.)-এর জ্ঞান ও সাহস, আনসারদের আত্মত্যাগ এবং মুহাজিরদের ত্যাগ মুসলিম জীবনের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা বহন করে।

সাহাবিদের জীবন পড়লে বোঝা যায়, ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের পথে তারা কত কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। কেউ নিজের জন্মভূমি ছেড়েছেন। কেউ সম্পদ বিসর্জন দিয়েছেন। কেউ পরিবার ও স্বজনের বিরোধিতা সহ্য করেছেন। কেউ আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছেন। তাদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই পরবর্তী প্রজন্ম ইসলামের শিক্ষা পেয়েছে।

 

লেখক : ইসলামি গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত