বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ৪ শতাংশ

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় 'ইসাইয়াস'-এর জোড়া প্রভাবে বিশ্ববাজারে এই বড় ধরনের দরবৃদ্ধি ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ থেকে ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।

পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। তার এই বক্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দিন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ০.৫ শতাংশ কমে যায়। ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারেও দরপতন দেখা গেছে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে হুথি বিদ্রোহীদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছেন। এই সংঘাতের বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গত এক মাসে তেল ও গ্যাস পরিবহণ  বেড়েছে। কয়েক মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। তবে মার্কিন বাহিনীর দিকনির্দেশনা ও নিরাপত্তা সহায়তার কারণে কিছু জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আবারও এই পথে চলাচলের ঝুঁকি নিচ্ছে।

কিন্তু গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে এই পথে জ্বালানি পরিবহণ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এর পাশাপাশি, হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত বাড়ায় লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি রপ্তানিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল পরিবহণের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।

জ্বালানি বাজারবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হোর্হে লিওনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কিছুটা কমার কথা থাকলেও তা ঘটেনি। তার ভাষায়, লোহিত সাগর অঞ্চলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে।

লিওন আরও বলেন, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিও তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনার কথা বলেছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই আবার হামলা শুরু করবে না—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত