মানবজাতিকে মহান আল্লাহ সুশোভিত জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মানুষ তার জীবনকে সহজ, সুন্দর ও গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন উপায় আবিষ্কার করে আসছে। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় অগ্রগতি ও মানবকল্যাণে ব্যবহৃত নানাবিধ আবিষ্কারই মূলত ‘প্রযুক্তি’। প্রযুক্তি কেবল মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার একক ফল নয়, বরং এটি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দেওয়া এক অপূর্ব নেয়ামত ও অনুগ্রহ।
আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে প্রযুক্তি : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ধারণ করতে পারবে না।’ (সুরা ইবরাহিম ৩৪) প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রাকে যে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে, তা মহান আল্লাহর এই অশেষ নেয়ামতেরই অংশ।
বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত চিকিৎসাসামগ্রী, ইন্টারনেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এসবই মানুষের জন্য আল্লাহর অপার করুণা। মহান আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন বলেই মানুষ এসব আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি মানুষকে তা শিখিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সুরা আলাক ৫)
যোগাযোগ ও জ্ঞান প্রসারে প্রযুক্তি : একসময় দূরদূরান্তে বার্তা পাঠাতে মাস পার হয়ে যেত, আজ প্রযুক্তির কল্যাণে মুহূর্তে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করা যায়। মহান আল্লাহ বাতাসকে হজরত সুলাইমান (আ.)-এর অনুগত করে দিয়ে দ্রুত ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিলেন, যা আজকের আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার এক অলৌকিক ইঙ্গিত বহন করে। জ্ঞান ও দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি আজ এক যুগান্তকারী হাতিয়ার। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘরে বসেই পবিত্র কোরআন, হাদিস এবং পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
চিকিৎসা ও জীবনরক্ষায় প্রযুক্তি : প্রযুক্তির অন্যতম বড় আশীর্বাদ হলো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান। জটিল রোগ নির্ণয়, অঙ্গসংস্থাপন এবং উন্নত ওষুধ আবিষ্কারের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পাচ্ছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কারও জীবন রক্ষা করল, সে যেন সব মানুষের জীবন রক্ষা করল।’ (সুরা মায়েদা ৩২) প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা এই মহান দায়িত্ব পালন করছেন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য বিশাল রহমত।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার : আল্লাহর যেকোনো নেয়ামত পাওয়ার পর মানুষের প্রধান দায়িত্ব হলো, সেটার সঠিক ব্যবহার করা এবং শুকরিয়া আদায় করা। প্রযুক্তির অপব্যবহার যেমন অপরাধমূলক কাজ, সময় অপচয় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া আল্লাহর নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতার শামিল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের নেয়ামত বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম ৭) তাই প্রযুক্তিকে কল্যাণমুখী কাজে ব্যবহার করে মানবসেবা ও সত্যের প্রসারে কাজে লাগানোই হলো এর প্রকৃত শুকরিয়া।
প্রযুক্তি আমাদের আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, তেমনি মানুষের কল্যাণ সাধনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। প্রযুক্তিকে মহান আল্লাহর দেওয়া এক আমানত ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামত মনে করে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করাই একজন সচেতন ও ইমানদার মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক