অল্পে তুষ্টির সৌন্দর্য

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ এএম

মহান আল্লাহ পুরো সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করেছেন, সবকিছু অস্তিত্বে এনেছেন, সবার ওপর নেয়ামত পরিপূর্ণ করেছেন এবং নিজ অনুগ্রহকে সুপ্রশস্ত করেছেন। সৃষ্টি, আদেশ, নির্ধারণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি একক। তিনি বান্দাদের মধ্যে রিজিক বণ্টন করেছেন, তাদের আয়ুর মধ্যে তারতম্য রেখেছেন এবং তাদের অবস্থার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ মানবকুলের জন্য যা বণ্টন করেছেন তাতে কেউ কেউ সন্তুষ্ট থাকে। ফলে তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়, আত্মা স্থির হয় এবং জীবন সুখময় হয়। আর কেউ কেউ অন্যের হাতে যা আছে সেটার দিকে নজর বাড়িয়ে দেয়। ফলে অসন্তোষ তাদের গ্রাস করে, লোভ পরিশ্রান্ত করে এবং সম্পদ প্রচুর হলেও অন্তরের দিক থেকে দরিদ্রে পরিণত হয়।

হে মানব সম্প্রদায়! আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন এবং আয়ু ও রিজিক লিখে রেখেছেন। সুতরাং বান্দার জন্য যা লেখা রয়েছে তা ছাড়া সে কিছুই পায় না এবং আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা থেকে সে বঞ্চিত হয় না।

যার অন্তর সম্পদের স্বল্পতায় সংকীর্ণ হয়ে গেছে, যাকে জীবিকার চিন্তা ভারাক্রান্ত করেছে এবং যে অন্যের কাছে থাকা জিনিস অর্জনের পেছনে নিজেকে ক্লান্ত করেছে, তাদের বলছি, আপনার রবের ব্যবস্থাপনায় আশ^স্ত হোন, শরিয়তসম্মত উপায়গুলো গ্রহণ করুন। আপনার ভাগ্যে যা লেখা হয়নি তাতে আপনার অন্তরকে ঝুলিয়ে রাখবেন না। কেননা রিজিক নির্ধারিত, আয়ু সুনির্দিষ্ট আর আল্লাহর কাছে, যা রয়েছে তাই সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী।

হে আল্লাহর বান্দারা! আমরা এমন এক জামানায় বসবাস করছি, যেখানে প্রলোভন বেড়ে গেছে, দুনিয়া অর্জনের প্রতিযোগিতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং বহু মানুষ সুখকে পরিমাপ করছে সম্পদ দিয়ে, নিজেদের মূল্য নির্ধারণ করছে পোশাক-পরিচ্ছদ দিয়ে এবং নিজেদের মর্যাদা মাপছে তারা যা প্রদর্শন করে তা দিয়ে।

চোখের সামনে ছবি ও ভিডিওর স্রোত বয়ে চলেছে, যার ফলে মন তুলনামূলক বিশ্লেষণের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। এতে মানুষ অন্যের নেয়ামত দেখে, কিন্তু নিজের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের কথা ভুলে যায়। তার যা অভাব রয়েছে তা দেখে, কিন্তু আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে গাফেল হয়ে যায়। এই পরিস্থিতির মাঝেই অল্পে তুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়ে যায়, যা মানুষের জন্য সবচেয়ে সুন্দর গুণ ও সম্পদ। এটাই হলো প্রকৃত ধনাঢ্যতা যা সুখ, সন্তুষ্টি ও মনে শান্তি এনে দেয়, যেখানে আত্মা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা থেকে, অসন্তোষ প্রকাশ, হিংসা ও লোভ থেকে বিরত থাকে এবং এমন শান্তিতে বসবাস করে, যা মোহ ও লোভের ঝড়ে টলে যায় না।

অল্পে তুষ্টি হলো, মহান আল্লাহ যা বণ্টন করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা, মানুষের হাতে থাকা জিনিসের দিকে দৃষ্টি না বাড়ানো, যা বিদ্যমান তা নিয়ে তুষ্ট থাকা এবং যা অনুপস্থিত তা পাওয়ার জন্য উন্মুখ না হওয়া।

অল্পে তুষ্টি হলো, আপনার কী অভাব আছে তা গণনা করার আগেই আপনার ওপর আল্লাহর নেয়ামতগুলো দেখতে পাওয়া। অল্পে তুষ্টির মাধ্যমে জীবন সুন্দর হয়, মানুষ সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি অনুভব করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, প্রয়োজন অনুযায়ী রিজিক পেয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম ১০৫৪)

২ অক্টোবর শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত