রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি মিলেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একাধিক আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষায় গ্রেপ্তার দুই প্রতিবেশী আসামির ডিএনএ-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
রংপুর গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ, আংশিক খাওয়া খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং রক্তের দাগসংলগ্ন বেসিনের নমুনা। উদ্ধার হওয়া সব আলামত দফায় দফায় বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া সিগারেটের অংশ, খেজুর ও শসার নমুনায় গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ হুবহু মিলে গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, আলামতে প্রাপ্ত এই ফরেনসিক প্রমাণ মামলার তদন্তে আসামিদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতির অন্যতম শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই চার খুনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরদিন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি ও আলামতের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুরে চার খুন: পুলিশ
রংপুরে চার খুন: ‘প্রমাণ ধুয়ে ফেলার কিছু নেই,’ বললেন কমিশনার