নিজেই শাস্তি চেয়ে এখন বড় নিষেধাজ্ঞার মুখে রোনালদো

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

কোচের সিদ্ধান্তের প্রতি চরম ক্ষোভ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে দীর্ঘ এক বিবৃতির মাধ্যমে দেশবাসী ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। তাতেও স্বস্তি মিলছে না রোনালদোর; পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা বিধিমালার নিয়ম অনুযায়ী সিআরসেভেন পড়তে যাচ্ছেন এক থেকে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞায়।

ঘটনার সূত্রপাত উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচে। কোচ হোর্হে জেসুস ওয়ার্ম-আপ করতে পাঠালেও পুরো ম্যাচ রোনালদোকে বেঞ্চেই বসিয়ে রাখেন। এটিকে নিজের জন্য অপমানজনক মনে করে ক্যাম্প ছেড়ে বেড়িয়ে যান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। 

যার সূত্র ধরে গতকাল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘মিরর’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী দলত্যাগের দায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা, যার চূড়ান্ত মেয়াদ এখন নির্ধারণ করবে এফপিএফ-এর ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল।

ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা এবং এর দায় নিয়ে নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ বিবৃতিতে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে গত মঙ্গলবার রোনালদো লিখেছিলেন, ‘ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার জন্য আমার জাতীয় দলের সহকর্মীদের কাছেও আমি ক্ষমা চাইতে বাধ্য। কোচের বক্তব্যের ওপর আস্থার স্পষ্ট চিড় ধরা সত্ত্বেও, এবং যারা সেই কথোপকথন দেখেছেন তারা যা নিশ্চিত করতে পারেন, আমার এভাবে বেরিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি।’ 

নিজের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় না চেয়ে এবং অধিনায়ক হিসেবে দায় স্বীকার করে ওই একই বিবৃতিতে রোনালদো আরও বলেন, ‘এই কাজের পরিণতি অবশ্যই পরিমাপ করতে হবে এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে আমার শাস্তি দিতে হবে। আমি সচেতন যে এই শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা বা লঘুকরণের সুযোগ থাকা উচিত নয়। আমি কেবল সাধারণ কোনো খেলোয়াড় নই; আমি দলের অধিনায়ক, আর এটি শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর একটি বড় কারণ।’

রোনালদো যখন নিজেই বলেছিলেন তাকে শাস্তি এখন সেই খড়্গেই পড়তে যাচ্ছেন তিনি। 

অন্যদিক থেকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলাতে সংবাদমাধ্যমের সামনে জেসুস বলেছিলেন, ‘আমি বিবৃতিটি পড়েছি এবং এখন প্রতিদিনই যেভাবে কাজ করি সেভাবে আমার কাজ করছি। আমি ফেডারেশনে যাচ্ছি কাজ করতে এবং দলকে নিয়ে ভাবতে।’ 

২৪৩ ম্যাচে ১৪৬ গোলের বিশ্বরেকর্ডধারী এই কিংবদন্তির ক্ষমা প্রার্থনার সদিচ্ছাকে মূল্যায়ন করা হলে শাস্তির মেয়াদ এক মাসে নেমে আসার সম্ভাবনাও দেখছে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। তবে শাস্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আগামী আন্তর্জাতিক বিরতিতে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগিজদের জার্সিতে মহাতারকার মাঠে নামা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় সংশয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত