বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ইবিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘পর্যটনকে নতুনভাবে সাজাতে ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট ও গলফ ক্লাবের সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং রহিমআফরোজ বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়াজ রহিম।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শাহীদ মিয়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মহিউদ্দিন সেলিম, এনজিও দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম এবং গোয়িংফ্লাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘পর্যটন এখন আর শুধু আনন্দ-বিনোদন কিংবা অবকাশযাপনের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের রয়েছে সমুদ্রসৈকত, নদী, বন, পাহাড়, চা-বাগান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এসব সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে পর্যটন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না, সেগুলো চিহ্নিত করে মোকাবিলা করতে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বিশ্ব পর্যটন খাতে ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে, যা এ খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার বাংলাদেশের পর্যটনসেবাকে আরও আধুনিক, পর্যটকবান্ধব ও বৈশ্বিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজলভ্য করতে পারে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা, দায়িত্বশীল পর্যটন আচরণ এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ইরফান আহমেদ বলেন, ‘পর্যটন খাতের সামগ্রিক রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় শিল্পবিপ্লব থেকে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যেতে ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এআইয়ের সঠিক প্রয়োগ একজন পর্যটকের গন্তব্য নির্বাচন, তথ্য অনুসন্ধান ও ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে।’

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে গত ২৭, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বিভাগটি। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্যাম্পাসের বটতলায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরা, চিঠি বিতরণ, ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল ও গানের আসর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত