ব্যাটারি রিকশার আন্দোলনে অংশ না নেওয়ায় চালকদের মারধর

নিউ মার্কেট ও ধানমন্ডির শংকরে ২০-২৫টি রিকশার তার ছেঁড়ার অভিযোগ, মারধরে আহত অন্তত তিনজন। কর্মসূচি ঘিরে ঘটেছে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা।

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

ব্যাটারি রিকশার আন্দোলনে অংশ না নেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর নিউ মার্কেট ও ধানমন্ডির শংকর এলাকায় রিকশার তার ছিঁড়ে ফেলেছেন একদল ব্যক্তি। এ সময় শংকর এলাকায় কয়েকজন চালককে মারধরও করা হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকায় বেশ কিছু ব্যাটারি রিকশা আটকে তার ছিঁড়ে দিতে দেখা যায় একদল ব্যক্তিকে। পরে সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ডে ২০-২৫ জনের একটি দল চালকদের ওপর চড়াও হয়।

এ সময় ২০-২৫টি রিকশার তার ছিঁড়ে ফেলা হলে কয়েকজন চালক সংগঠিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। তখন আন্দোলনের পক্ষের ব্যক্তিরা তাদের মারধর করেন। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।

আহত চালক রাইসুল বলেন, কোথায় আন্দোলন চলে, তা আমরা জানি না। সকালে অটো নিয়ে বের হয়েছি, এখন কিছু না বলে তার ছিঁড়ে ফেলছে। জিজ্ঞাসা করায় আমাদের মারধর করেছে।

আন্দোলনের পক্ষের একজন নিউটন নিজেকে ব্যাটারি রিকশার চালক দাবি করে বলেন, চারদিন আগে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেউ কেউ আন্দোলনে না গিয়ে রাস্তায় রিকশা নিয়ে নেমেছেন। এ কারণে তাদের রিকশার তার ছেঁড়া হচ্ছে।

নিউটন বলেন, এই জন্য তার ছিঁড়তেছি। তারা আবার উল্টো বলে জানে না, তাই মাইর খাইছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সোহেল রানা জানান, তাদের আজ কোনো কর্মসূচি নেই। তিনি বলেন, পাঁচদিন আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। রবিবারের কর্মসূচিটি কোনো ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনের হতে পারে।

এদিকে রবিবার সকাল ১১টায় হাজারীবাগ বেড়িবাঁধের বউবাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সংগঠন রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন।

চালকদের মারধর ও রিকশার তার ছেঁড়ার ঘটনার সঙ্গে ওই কর্মসূচির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, জানতে চাইলে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন বলেন, ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত নন-এমন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক সেজে অনুপ্রবেশ করছেন বলে তাদের নজরে এসেছে।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো আন্দোলনে জনগণের কোনো প্রকার হয়রানি হতে হয় না। আমাদের আন্দোলন জনগণের জন্যই। এটা যারা করছে, তারা কোনো রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য করছে।

রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম বলেন, পুলিশি বাধার কারণে সকাল ৯টার দিকে দ্রুত মিছিল শেষ করে তারা সরে যান।

তিনি বলেন, এটা ক্ষোভের কারণে হয়েছে। নিজের রিকশা বন্ধ করে অনেকে এসেছে, অন্যরা না আসায় এমন বিচ্ছিন্ন দু-একটা ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত