নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের সেন্টার বাজারসংলগ্ন বিরবিরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ধানিয়া মৎস্য খামার’ নামের একটি খামার ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন মহব্বত হোসেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে খামারে গিয়ে তিনি পুকুরের সব মাছ মরে পানিতে ভেসে থাকতে দেখেন। পরে পুকুরের পানি পরীক্ষা করে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।
তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তারা জাল দিয়ে পুকুরের মাছ তুলে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে সব মাছ মরে পচন ধরায় সেগুলো উদ্ধার করে কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয় প্রবাসী নুর হোসেন জানান, মহব্বত দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। দুই বছর আগে দেশে ফিরে একটি খামার ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। এ জন্য কয়েকটি এনজিও থেকে মোটা অঙ্কের ঋণও নেন তিনি। মাছ মরে যাওয়ায় এখন তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
খামারের মালিক পূর্ব বিরবিরি গ্রামের বাসিন্দা মহব্বত হোসেন জানান, নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলায় বেশি দামে বিক্রির আশায় অন্য পুকুর থেকে মাছ কিনে এনে খামারে রেখেছিলেন তিনি। সোমবার সকালে এসব মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।
তিনি বলেন, তার পুকুরে প্রায় ২০ থেকে ২২ মণ তেলাপিয়া মাছ ছিল। বর্তমান বাজারদরে এসব মাছ প্রায় পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতো। এতে তার উৎপাদন খরচ উঠে ভালো লাভ হতো। কিন্তু মাছ মরে যাওয়ায় সব শেষ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে সেন্টার বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। সকালে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু দেখেছেন। মাছ মরে যাওয়ায় খামারি মহব্বত একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। তাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।