স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিতে মাহ্দী আমিনের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

সাক্ষাৎকালে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা আনয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধ ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিপত্রে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহে নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে জনশক্তি রপ্তানি নিশ্চিতকরণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার রোধ এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাত হয়।

ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

সাক্ষাৎকালে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা আনয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধ ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ এবং ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিপত্রে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা যাতে সহজে ও বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন এবং বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক বাড়ানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে অভিবাসন, এছাড়াও সেই সম্পর্ক উন্নয়নসহ বহুমাত্রিক বিষয়ে আলোচনা হয়৷ বাংলাদেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী প্রতি বছর ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যান, সেই প্রক্রিয়াকে আরো কীভাবে সহজ করা যায় তা নিয়ে আলাপ হয়, ব্রেন ড্রেইনকে কীভাবে ব্রেন সার্কুলেশনে রুপান্তর করা যায় তা নিয়ে আলাপ হয়।

সাক্ষাতে ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি ইইউ প্রতিনিধিদলকে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়ে অবহিত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কর্মী প্রেরণের পুরো প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও বেশি স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক করা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইইউ পরিচালক হেনরিক নীলসেন এবং ক্যাবিনেট মেম্বার গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এছাড়া ইইউ ডেলিগেশনের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট কাউন্সেলর।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত