চাকসু ভিপির মিমিক্রি ভিডিও নিয়ে চবিতে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা সমাধানের দাবি এবং চাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ও চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনির একটি ভিডিও নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, অবৈধ আসন বরাদ্দ বাতিল, নিরাপদ ক্যাম্পাস, চিকিৎসাসেবা ও পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা সমাধানে দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গি অনুকরণের অভিযোগে রনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল দাবি করে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রেখেছিল। তবে আন্দোলনের সময় ছাত্রশিবিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনটি অভিযোগ করে, অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো যখন রাজপথে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল, তখন ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতা ও ক্ষমতাসীন ব্যবস্থার সঙ্গে সহাবস্থানের কৌশল নিয়েছিল। ছাত্রদলের দাবি, এ ধরনের রাজনীতির কারণে ক্যাম্পাসগুলোতে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের উদাহরণও তুলে ধরে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২০২০ সালে বেগম খালেদা জিয়ার বাচনভঙ্গি অনুকরণের দৃশ্য দেখা যায়। ছাত্রদলের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অবস্থায় তাঁর প্রতি এ ধরনের ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপন অসম্মানজনক। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হল দখল, ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ রাখা এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দাউদ সালমানের ওপর মব সৃষ্টির মাধ্যমে দলীয় স্বার্থ হাসিলের চেষ্টার অভিযোগও রনির বিরুদ্ধে আনে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রনির ভিডিও নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও তদন্তের ফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিডিওতে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ছাত্রশিবিরের ভূমিকা ও গোপন রাজনীতি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া, ক্যাম্পাসে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক পেজগুলোর অ্যাডমিন শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে, ভিডিওটি নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে বক্তব্য দিয়েছেন ইব্রাহিম হোসেন রনি। তাঁর দাবি, ভিডিওটি ২০২০ সালে ইতিহাস বিভাগের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধারণ করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে তিনি হানিফ সংকেত, বেগম খালেদা জিয়া, ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পীর কথা বলার ধরন অনুকরণ করে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সেটি ছিল বিনোদনমূলক পরিবেশনা; কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল না।

রনি আরও দাবি করেন, মূল পরিবেশনা থেকে শুধু বেগম খালেদা জিয়ার অংশ কেটে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ কেটে প্রচার করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত