গুদাম পরিদর্শন করে চাকরি হারালেন মন্ত্রীর এপিএস

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করে চাকরি হারালেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আব্দুল আওয়াল বুলবুল। এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস আব্দুল আওয়াল গত ১১ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন। এজন্য তিনি সরকারি একটি সফরসূচি তৈরি করেন। যেখানে দেখা গেছে, তার ঢাকার মোহাম্মপুরের বাসা থেকে গুদাম পরিদর্শন শেষে ঢাকা ফেরা পর্যন্ত কর্মসূচির সময় নির্ধারণ করা হয়। মন্ত্রীর এপিএস হিসেবে সরকারিভাবে এই ধরনের কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। ফলে বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসায় তাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এই ধরনের কর্মসূচি তৈরিতে সহায়তা প্রদানকারী মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এপিএসের এ কর্মসূচির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কিছুই জানতেন না। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত খাদ্যমন্ত্রী। সফরের পরদিন বিষয়টি জানতে পেরে এপিএসকে অফিসে আসতে নিষেধ করেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর খাদ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরে মন্ত্রীর দপ্তরের একটি সফরসূচির নোটিস জারি করা হয়। এতে বলা হয়, এটি একটি সরকারি সফর। সফরসূচিতে বলা হয়, মন্ত্রীর এপিএস আব্দুল আওয়াল ১১ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করবেন। এই সূচিতে নিজের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে পুনরায় মোহাম্মদপুরের নিজ বাসভবনে আসা পর্যন্ত কার্যক্রমের বর্ণনা তুলে ধরা হয়। এই ভ্রমণের যাবতীয় সহায়তার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুলিপি পাঠানো হয়। এ ছাড়া জ¦ালানির ব্যবস্থার জন্য অনুলিপি প্রদান করা হয় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের পরিচালককে। তার সঙ্গে সরকারি কিছু কর্মকর্তাও পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তবে খাদ্যমন্ত্রীর অগোচরে এই ভ্রমণ করে আসার পরদিনই মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি মন্ত্রী জানার পরই এপিএসকে কক্ষে ডেকে নেন এবং সেদিনই অফিস থেকে রেরিয়ে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস আব্দুল আওয়াল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আসা এই অভিযোগ সত্য নয়। আমি নিয়মিত অফিস করছি। তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এপিএস নানাভাবে বিষয়টি মন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ শুরুর পর থেকেই নিজ এলাকা মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে একটি তদবির সিন্ডিকেট গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত