গুনাহকে হালকাভাবে নেওয়ার ভয়াবহতা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

বর্তমান সময়ে মানুষ গুনাহকে খুব সাধারণ বিষয় মনে করে। কোনটা কবিরা গুনাহ, আর কোনটা সগিরা গুনাহ, সেই বিষয়ে কিছুই বিবেচনা করে না। এতে করে সে দৃষ্টি, জবান কোনো কিছুকে হেফাজত করার প্রয়োজনীতা অনুভব করে না। কেউ তাকে বিরত থাকতে বললে সে বলে, এতে আর কি হবে? গুনাহকে এত হালকাভাবে নেওয়ার কারণগুলো যদি আমরা বিবেচনা করি, তাহলে বেশ কয়েকটি বিষয় সামনে আসে।

এক. তাকওয়ার অভাব। মানুষ যদি আল্লাহকে ভয় করত তাহলে সে কখনো কোনো গুনাহে লিপ্ত হতো না, হোক সেটা সগিরা কিংবা কবিরা গুনাহ। যখনই সে গুনাহের দিকে ধাবিত হতো তখনই তার অন্তর আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হতো।

দুই. ছোট গুনাহকে খুব তুচ্ছ মনে করা। আমাদের সমাজে মানুষ ছোট গুনাহকে কোনো গুনাহ মনে করে না। এতে করে গুনাহের পরিমাণ বেড়েই চলছে।

তিন. প্রযুক্তির অপব্যবহার ও প্রকাশ্য পাপ। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে খুব সহজেই অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

চার. সামাজিক অনুশাসনের অভাব। সমাজে ভালো কাজকে উৎসাহ দেওয়া এবং মন্দ কাজকে নিরুৎসাহিত ও প্রতিবাদ করার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা : মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ ও গোপন গুনাহ বর্জন করো। যারা গুনাহ করে তারা তাদের কৃতকর্মের ফল অচিরেই পাবে।’ (সুরা আনআম ১২০)

নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো। কারণ এগুলো জমতে জমতে একসময় মানুষকে ধ্বংস করে দেয়।’ (সহিহুল জামে)

গুনাহ করার কুফল : গুনাহ করতে করতে ইবাদতে অনীহা চলে আসে। ইবাদতের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকে না। গুনাহের কারণে জ্ঞান কমে যায়। কারণ ইলম হলো নুর। আর গুনাহ হলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর সেই অন্ধকারের কারণে আলোর তীব্রতা থাকে না। গুনাহের কারণে তওবার সুযোগ কমে আসে। নিয়মিত গুনাহ করার কারণে মানুষের অন্তর গাফেল হয়ে যায়। এতে করে সে তওবার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে। গুনাহের কারণে রিজিক ও বরকত হ্রাস পায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত