সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতু থাকার খবর অপপ্রচার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেলে মাত্রাতিরিক্ত লেডসহ (সিসা) বিভিন্ন বিষাক্ত ভারী ধাতু থাকার খবরকে অপপ্রচার বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের খবর প্রকাশের পর ১৯৩টি সয়াবিন তেলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় দেশের বাজারে থাকা সয়াবিন তেলে কোনো ক্ষতিকর ধাতু বা লেড পাওয়া যায়নি।’

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উদ্যোগে অফিসার্স ক্লাব ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিসি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল-আওয়াল। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘অনেক ধরনের নেতিবাচক খবরের মধ্যে অন্তত একটি ভালো খবর দিচ্ছি। এখন রান্নায় সয়াবিন তেল ব্যবহারের সময় মানুষ জানবেন, এতে অন্তত ক্ষতিকর কিছু নেই। বাংলাদেশে বাজারে যে সমস্ত সয়াবিন তেল আছে, সেগুলো সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। এর মধ্যে কোনো ভেজাল বা ভারী ধাতু নেই, কোনো লেড নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।’

ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে নজরদারি জোরদার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে বিএসটিআইর জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএসটিআইর ব্যাপ্তি এমনভাবে বিস্তৃত করতে চাই, যাতে দেশের সব জায়গায় তদারকি নিশ্চিত করা যায়। 

উল্লেখ্য, বিশ্ব মান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করে বিএসটিআই। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রীর মাধ্যমে বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) এর হাতে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ তুলে দেন বিএবির মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের ফলে হালাল পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ, সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএসটিআইর ন্যাশনাল হালাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের ফলে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারদের জন্য সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হলো।

অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন দেখে একজন ক্রেতার মনে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হওয়াই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় অর্জন। যে কোনো অর্জন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে সবার সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। মেইড ইন বাংলাদেশ যেন পণ্যের মান, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

নকল, ভেজাল ও বিএসটিআই’র মানচিহ্নের অবৈধ ব্যবহাররোধে পৃথক গোয়েন্দা ইউনিটের প্রয়োজীয়তার কথা তুলে ধরে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, নকল ও ভেজালের প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশেষায়িত এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট চালু করা প্রয়োজন। তারা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে। তিনি বলেন, মান শুধু একটি কাগজের সনদ নয়, এটি নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার চুক্তি। রাষ্ট্রের সেই দায়িত্ব পালনের জন্য বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে।

এফসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বিএসটিআই’র হালাল সার্টিফিকেশনের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন নিশ্চই বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নকল ও ভেজালরোধে নিজেদের স্বার্থে বিএসটিআইকে সব দিক থেকে সহযোগিতা এবং শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে জানান ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের এ প্রশাসক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত