রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় এক নীতিনির্ধারণী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় তরুণদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রণীত একটি সুপারিশপত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারে তরুণদের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। 'জয়নিং ইয়ুথ ইন ইফেক্টিভ এনগেজমেন্ট ইন রিফর্ম অ্যাজেন্ডাস ইন বাংলাদেশ (জয়ী)' কার্যক্রমের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলোচনার শুরুতে সুপারিশপত্রের মূল পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন ভয়েস-এর উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা। উপস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের সীমিত প্রভাব, আদিবাসী ও প্রান্তিক তরুণদের অপর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো উঠে আসে।
পাশাপাশি, প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আরও তুলে ধরা হয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্বলতা, কর্মসংস্থান, পেশাগত বিকাশে প্রতিবন্ধকতা, তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সংস্কার প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি অনুসরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোসহ একাধিক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথিরা অগ্রাধিকারভিত্তিক করণীয় এবং আইন প্রণেতা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পরবর্তী সম্পৃক্ততা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, 'সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধের কাজ করেন। জনগণকে বিভক্ত করে এমন কোন বিতর্কে না গিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।' বর্তমান সরকার তরুণদের সাথে নিয়ে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও দাবী করেন এই তরুণ নেত্রী।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করলেও তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে পারেন। এই বাস্তবতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রান্তিক তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এছাড়া, যুব কার্যক্রমকে বেগবান ও যুগোপযোগী করতে খুব শীঘ্রই খসড়া জাতীয় যুবনীতি ২০২৬ চূড়ান্ত করে জারি করা হবে বলে তিনি জানান।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, 'তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার উদ্বোধন হবে, যেখান থেকে তরুণরা নিজ দক্ষতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ পাবেন।'
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তরুণ প্রতিনিধি, সরকারী ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনায় নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সংস্কার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপস্থিত সকলে তরুণদের হাত ধরে আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন।