অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ জন, যা জানা গেল

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখোনো নিখোঁজ যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের চারজন। নিখোঁজ চারজন তারা হলেন, পৌর শহরের মোহনপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান (৪০) তাঁর স্ত্রী আফসানা এবং তাঁদের দুই কন্যা রোবাইনা ও সুনাইনা।

অগ্নিকাণ্ডে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি সঠিক কোন তথ্য তারা নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। তাদের খোঁজে ইতিমধ্যে নাহিদুর রহমানের ভাই জাহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। 

টুপটুপ রেসটো অ্যান্ড রিসোর্টের ইনভয়েস সূত্রে জানা যায়, নাহিদুর রহমান ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর দুই রাতের জন্য ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষ বুক করেছিলেন। সাথে ছিল তার স্ত্রী আফসানা, সাত বছর বয়সী কন্যা রোবাইনা, তিন বছর বয়সী কন্যা সুনাইনা।

নিখোঁজ জাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।তিনি মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবরে নাহিদুরের সাথে কোন যোগাযোগ করতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছেন।

নাহিদুরের ভাই জাহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নাহিদুরের শুক্রবার কক্সবাজার রিসোর্টে গিয়েছিল। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের খবরে তাদের কোন খোঁজ না পেয়ে আমি এই রিসোর্টে এসেছি। তবে, এখনও আমার ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের কোন খোঁজ পাইনি। 

নাহিদ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নাহিদুর রহমানের বিষয়ে জানতে চাইলে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, নাহিদুর রহমানের নিখোঁজের বিষয়টি জেলা প্রশাসন বলতে পারবেন। 
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছে, মরদেহের ডিএনএ টেস্ট ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা যাবেনা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়েছে। এ ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।


সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত