‘সব ধর্মের মানুষ নিয়েই দেশ গড়ব’: প্রধানমন্ত্রী

সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় মহাসড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। 

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমাজের প্রত্যেকটি খেটে খাওয়া মানুষসহ সকল শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে এগারোটায় রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে তারাগঞ্জের পাগলাপীর এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান সহজ করতে ফ্যামেলি কার্ড চালু করা হয়েছে। দেশের মসজিদ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের গুরুদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করেছে বর্তমান সরকার।

দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় সব ধর্মের ও বর্ণের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছিল। ঠিক তেমনিভাবে আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে এ দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক—আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা এই বাংলাদেশে বসবাস করছি, এ দেশটা আমাদের সকলের। তাই সকলে মিলে সম্মিলিত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই দেশকে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। এই হোক আমাদের আজকের পবিত্র প্রত্যাশা।’

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার বাইরে দেশের তিন বিভাগের পূজামণ্ডপ সশরীরে পরিদর্শনের বিশেষ অংশ হিসেবে এদিন রংপুরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
 
সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় মহাসড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। যাত্রাপথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
শারদীয়া দুর্গা উৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আজ সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান রাজধানী ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সশরীরে উপস্থিত হলেন।
 
সরকারপ্রধানের এই ব্যতিক্রমী ও উদার পদক্ষেপ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।
 
প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততম দিনব্যাপী সফরসূচি:

মঙ্গলবার দুর্গাপূজার মহানবমী তিথি উদযাপিত হচ্ছে। পরের দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয় দুর্গোৎসবের। এই মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনটি কেটেছে অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। সকালে তিনি ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

ঢাকার কর্মসূচি শেষে সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুরে পৌঁছে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি করবেন।

বিকেল ৩টায় তিনি রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এরপর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জেএম সেন হল রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতির পর রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিমানযাত্রা করবেন। সবশেষে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী সফর, বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ঘোষণা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করার এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এক নতুন ঐক্যের বার্তা নিয়ে এসেছে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত