কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে দেশটির অংশ হিসেবেই থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টার বাসিন্দারা। প্রদেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বিচ্ছিন্নতা-সংক্রান্ত গণভোটে এই ফল প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে কানাডার জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে কানাডার সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি নিউজ গণভোটের প্রাথমিক ফল ঘোষণা করে। তখন পর্যন্ত ৩৩ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছিল। গণনা করা ভোটের ৭৬ শতাংশই কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে পড়ে। অন্যদিকে, প্রদেশটির বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের পক্ষে ভোট পড়ে ২৩ শতাংশ। এই গণভোটের ফল অবশ্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, 'আলবার্টার বাসিন্দারা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকার, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এবং পরস্পরের পাশে থাকার পথ বেছে নিয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন,'কানাডা তার বিভিন্ন অংশের যোগফলের চেয়েও বড়।'
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাপন্থীরা কয়েক মাস ধরে স্বাধীন প্রদেশ গঠনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, আলবার্টার জ্বালানি খাত থেকে অর্জিত বিপুল সম্পদ কানাডার তুলনামূলক দরিদ্র অঞ্চলগুলোকে ভর্তুকি দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। অটোয়াভিত্তিক কেন্দ্রীয় সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না থাকলে আলবার্টা আরও সমৃদ্ধ হতে পারত বলেও তাঁদের দাবি।
তবে জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ও বিশ্লেষকেরা শুরু থেকেই বিচ্ছিন্নতাপন্থীদের জয়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছিলেন। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ভবিষ্যতে কানাডা ছাড়ার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের পক্ষে ছিলেন।
গত মে মাসে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এই গণভোটের ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে বাসিন্দাদের মতামত জানা এবং এরপর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্মিথ প্রাথমিক ফলাফলে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার তিনি প্রদেশের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়ে ফলাফল এবং আলবার্টার ভবিষ্য