‘ভারতে নেপাল-বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা’: আরএসএস-প্রধান

‘আন্দোলনের চেয়ে বরং পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনার মধ্য দিয়েই আসল সমাধান বেরিয়ে আসে।’

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ভারতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে 'সরকার পরিবর্তনের' একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে আরএসএসের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী দশেরা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর এনডিটিভি।

ফ্রান্স, আলবেনিয়া, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও অস্থিরতার উদাহরণ টেনে মোহন ভাগবত বলেন, ভারতেও একই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ এবং দেশ দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভে 'সরকার পরিবর্তনের' জোর দাবি ওঠার প্রেক্ষাপটে আরএসএস প্রধানের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভাষণে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমে একটি বড় ঝড় বয়ে গেছে। আপনারা ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের দিকে তাকালেই তা দেখতে পাবেন। তবে ভারতে সরকার পরিবর্তন করা সহজ নয়। এখানেও সে ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু ভারতের সম্মিলিত সামাজিক শক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশ নিজের লক্ষ্য অর্জনে শক্ত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন বা বিক্ষোভের অধিকারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সতর্ক করে দেন যে, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা, সমাজে কোনোভাবেই বিদ্বেষ বা ঘৃণার আগুন ছড়ানো নয়।

ভাগবত জোর দিয়ে বলেন, ‘সমস্যা তৈরি হলে আন্দোলন হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু তা যেন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে পরিচালিত হয়। জনমত বা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন কিংবা কেবল ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলন চালানো অনুচিত। আন্দোলনের চেয়ে বরং পারস্পরিক সংলাপ ও আলোচনার মধ্য দিয়েই আসল সমাধান বেরিয়ে আসে।’

তিনি আরও যোগ করেন, সমাজের সাধারণ মানুষকে নিজেদের বঞ্চিত মনে করার প্ররোচনা দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টির জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল সক্রিয় রয়েছে। এদের চক্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের মূল শক্তি অর্থাৎ বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ব্যক্তিগত অহংবোধ, অন্যের উপাসনাপদ্ধতি নিয়ে ভুল ধারণা এবং বৈচিত্র্যকে বিভেদ হিসেবে দেখার কুৎসিত মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

ভাগবত স্পষ্ট জানান, ভারতের প্রতি ভক্তি, ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের অবদানকে সম্মান এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার—এই তিন নীতিকে বুকে ধারণ করে সকল উসকানি উপেক্ষা করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত