মাঠে সময়টা যেন কোনোভাবেই মেলানো যাচ্ছে না। ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারে কোচ রবার্তো ডি জেরবির ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনার বাইরে চলে গিয়ে জায়গা হারিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের মূল স্কোয়াডে, খেলতে হচ্ছে অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে। কিন্তু মাঠের ফুটবলের সেই কঠিন সময়ের চেয়েও বড় এক নাটকীয় ও বিতর্কিত সংকটে জড়িয়ে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন।
রিও ডি জেনেইরোর উপকূলে ১ কোটি ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ২০ কোটি টাকা) খরচ করে কেনা নিজের ব্যক্তিগত দ্বীপ কোনো অর্থ না দিয়ে দখলের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি। আর এই অভিযোগের তীরের মুখে রয়েছেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে একজন জাতীয় ফুটবলারের এমন অভিযোগে তোলপাড় ব্রাজিলের ফুটবল অঙ্গন।
সংবাদমাধ্যম দ্য সান ও গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই দ্বীপে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন রিচার্লিসন। তবে আদালতের আইনি জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক রাতে তার বিনিয়োগ করা সম্পত্তি দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে রিচার্লিসন বলেন, ‘আমি তার কাছে দ্বীপটি বিক্রি করতে চাইনি, আর সে কারণেই তারা আদালতে পরিস্থিতিকে নিজেদের সুবিধা মতো ব্যবহার করেছে। আমরা যখন দ্বীপের মালিকানার কাগজপত্র চূড়ান্ত করছিলাম, তখন বলা হয়েছিল এই বিষয় নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস বা বছর লেগে যেতে পারে।’
আদালত ও বিচারব্যবস্থার নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একই ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন তুলে রিচার্লিসন আরও বলেন, ‘ফ্লাভিও বলসোনারো এবং ওয়েলার টমাস নামের ওই ব্যক্তি সেখানে যায় এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপটি দখল করে নেয়। এখানে দেশের বিচারব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আমার জানামতে, এক পয়সাও খরচ না করে তারা দ্বীপটি হাতিয়ে নিয়েছে। আমি সেখানে প্রায় ১ কোটি রিয়াল খরচ করেছি, অথচ কিছুই পাইনি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভক্তদেরও ফ্লাভিও বলসোনারোর কাছে এই অন্যায়ের জবাব চাওয়ার আহ্বান জানান রিচার্লিসন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে পাত্তা না দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজনীতিক ফ্লাভিও।
ব্রাজিলিয়ান গায়িকা ও ইনফ্লুয়েন্সার জুলিয়েটের একটি ভিডিওতে, যেখানে ডানপন্থী এই রাজনীতিকের সমালোচনা করা হয়েছিল, মন্তব্য ঘরে নিজের অবস্থান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো সরাসরি দাবি করেন, ‘এগুলো স্রেফ ভুয়া খবর (ফেক নিউজ)।’
বলসোনারোর এমন মন্তব্যের পর আর চুপ থাকেননি এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। পাল্টাজবাবে ওই মন্তব্যের নিচেই রিচার্লিসন সংক্ষেপে অথচ কড়া প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘তাহলে আমার দ্বীপের কী হলো?’
নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে এসে এমন গুরুতর ঘটনার সত্যতা উদঘাটন ও নিজ অর্থে কেনা দ্বীপ ফেরত পেতে পুলিশি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রিচার্লিসন।
দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়ে ইনফান্তিনোকে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন