ম্যাক আলিস্টারের জোড়ায় ৭ গোলের থ্রিলার জিতল লিভারপুল

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ এএম

ম্যাচের প্রথম আধা ঘণ্টায় ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে লিভারপুল যেন খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের পর পর দুটি মারাত্মক ভুলে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্যালারি, দ্রুত দুই গোল হজম করে চরম বিপদে পড়ে অলরেডরা। 

তবে সব বিষাদ আর ধাক্কা সামলে অলরেডদের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নায়ক হয়ে উঠলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ও রিও এনগুমোহা। আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালকের জোড়া অ্যাসিস্টে শেষ পর্যন্ত ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় আন্দোনি ইরাওলার শিষ্যরা। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে শতভাগ জয়ের দুর্দান্ত রেকর্ড ধরে রাখল লিভারপুল।

ম্যাচের শুরুতেই ফন ডাইকের ভুলের সুযোগ নিয়ে জর্জ মিকাউতাদজে ও সার্জি কার্ডোনার লক্ষ্যভেদে ২৯ মিনিটের মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ভিয়ারিয়াল। তবে লিভারপুলকে ম্যাচে ফেরান ম্যাক আলিস্টার; কোস্টাস সিমিকাসের নিখুঁত কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান কমান তিনি। 

পরে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এনগুমোহার ক্রস থেকে রেনাল্ড আরাউহোর হেডে সমতায় ফেরে অলরেডরা। আর বিরতির পর শুরু হয় ম্যাক আলিস্টার-এনগুমোহা জুটির আসল চমক। ম্যাচের ৬৫  মিনিটের মাথায় এনগুমোহার মাপা কাটব্যাক থেকে বুলেট গতির শটে বল ক্রসবারের নিচে দিয়ে জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন ম্যাক আলিস্টার। এর মিনিট দুয়েক গাকপোর পাস থেকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজ দলের চতুর্থ গোলটি পান। 

ম্যাচের ৮৭ মিনিটে ভিয়ারিয়ালের তানি ওলুওয়াসেয়ি এক গোল শোধ করলেও ম্যাক আলিস্টারদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের মুখে তা জয় ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

নিজের পারফরম্যান্সের চেয়ে ১৮ বছর বয়সী তরুণ সতীর্থের অবদানকে বেশি বড় করে দেখছেন ম্যাচের নায়ক। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে ম্যাক আলিস্টার বলেন, ‘আজকের রাতে রিও স্রেফ অবিশ্বাস্য ছিল। সেই আসলে ম্যাচের পুরো পার্থক্য তৈরি করে দিয়েছে। সে যে কতটা উচ্চমানের খেলোয়াড়, তা সবাই জানে। তবে বল ছাড়া খেলায় এবং মাঠে তাঁর কঠোর পরিশ্রম প্রশংসা করার মতো। তাঁর দুর্দান্ত খেলায় আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত।’ 

এদিকে নিজের সেরা ম্যাচ উপহার দেওয়া এবং অ্যানফিল্ডে গ্যালারির গর্জন নিয়ে অ্যামাজন প্রাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এনগুমোহা বলেন, ‘আমার খেলা সেরা ম্যাচগুলোর একটি ছিল আজ। যখনই বল পাই এবং ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার সুযোগ থাকে, আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি। বিশ্বের সেরা সমর্থক আমাদের রয়েছে, তাদের মুখে আমার নাম শুনতে পাওয়াটা এক স্বপ্নের মতো।’

ম্যাক আলিস্টারের অভিজ্ঞতা এবং এনগুমোহার ক্ষিপ্রতায় ভর করে স্মরণীয় এই জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অলরেড কোচও। সংবাদ সম্মেলনে ইরাওলা বলেন, ‘আমরা খুব ঢিলেঢালাভাবে খেলা শুরু করেছিলাম এবং ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও কিছুটা গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। তবে শক্তিশালী ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে এমন রোমাঞ্চকর জয় আমাদের কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। বিশেষ করে ম্যাক আলিস্টারের নেতৃত্ব এবং রিওয়ের ক্ষিপ্রতা আজ দুর্দান্ত ছিল।’ 

নিজের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে নির্দিষ্ট বেশ কিছু ড্রিবলিং ও কি-পাসের অনন্য রেকর্ড গড়ে ৭৩ মিনিটে যখন মাঠ ছাড়েন এনগুমোহা, পুরো এনফিল্ড দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে বরণ করে নেয় ১৮ বছরের এই বিস্ময় বালককে। এই জয়ে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকা পিএসজির চেয়ে গোল ব্যবধানে কিছু্টা পিছিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে অলরেডরা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত