দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশকে ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছেন ছাত্র সংগঠন আইসার সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরার। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা তাঁর আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। সূত্রের খবর, শুক্রবার এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে। খবর আনন্দবাজার।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদের বেঞ্চে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শুনানি হয়। শুনানিতে নেহার আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে এবং ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিতে বাধ্য করার নির্দেশ আইনসম্মত নয়।
গত ১৬ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে দিল্লির কনট প্লেসে জাতীয় পতাকা হাতে ‘লেহেরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি শুরুর আগে নেহাকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অন্য কয়েকজন নেতার মতো তাঁকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরে দিল্লি পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দেওয়ার নোটিস দেন। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নেহা।
নেহার বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ এবং আইন লঙ্ঘন করে জমায়েতের ডাক দেওয়ার অভিযোগ আনে দিল্লি পুলিশ। ‘ভোটচুরি’ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনের সময় সরকার পরিবর্তনের আহ্বানকেও বেআইনি বলে দাবি করে পুলিশ।
হাইকোর্টে নেহার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নেহা সিজেপির সদস্য নন। ফলে ১৬ অক্টোবরের কর্মসূচির আয়োজক বা আহ্বানকারীদের তালিকায় তাঁকে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশের যেকোনো স্থানে যাওয়া নাগরিকের অধিকার বলেও দাবি করেন তাঁরা।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, নেহা বারবার প্রকাশ্যে সরকার পরিবর্তনের হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে নেহার আইনজীবীরা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানানো বেআইনি হতে পারে না।
নেহার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা স্থগিত রাখেন হাইকোর্ট। শুক্রবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।