বিবিসির বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে শপথ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ না নিলে ট্রাম্পের মামলা খারিজসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। খবর বিবিসির।
বিবিসির ‘প্যানোরামা’ অনুষ্ঠানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে দাঙ্গার আগে দেওয়া ট্রাম্পের একটি ভাষণের দুটি পৃথক অংশ জুড়ে সম্প্রচার করা হয়েছিল। ওই সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের অর্থ বিকৃত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিবিসির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার মিয়ামির আদালতে বিবিসির আইনজীবী চার্লস টোবিন বলেন, মামলার প্রমাণ সংগ্রহ ও তথ্য বিনিময়ের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর দুই মাস বাকি থাকলেও ট্রাম্প এখনো শপথ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেননি।
ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিকে লেট নির্দেশ দিয়েছেন, ট্রাম্পকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে হবে। অন্যথায়, প্রমাণ সংগ্রহের সময়সীমা বাড়ানো না হলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে মামলাটি খারিজও করা সম্ভব।
এর আগে গত ১৬ অক্টোবর নির্ধারিত জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ‘জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়’ উল্লেখ করে তা বাতিল করেন ট্রাম্প। তবে আদালতে বিবিসির আইনজীবী দাবি করেন, ওই দিন ট্রাম্প জর্জিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের চেয়ে সেই কর্মসূচিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
ওই দিন জর্জিয়ার ডালটনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে যোগ দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ফ্লোরিডায় নিজের মার-আ-লাগো সম্পত্তিতে একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।
অন্যদিকে, বুধবার আদালতে জমা দেওয়া পৃথক এক আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানান, আগামী বছরের ১১ থেকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে পারেন। বিবিসি যে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছে, তা ভুল বলেও দাবি করেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়ায় ‘ডিপোজিশন’ বা শপথ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ হলো আদালতের বাইরে প্রশ্নের জবাবে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শপথ নিতে হয় এবং তাঁর বক্তব্য হুবহু নথিভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার শুনানি বা বিচারে এসব বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ট্রাম্পের মামলাটি বর্তমানে ‘ডিসকভারি’ পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যায়ে মামলার দুই পক্ষই সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে—এমন নথি, অভ্যন্তরীণ রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য বিনিময় করে।
ফ্লোরিডায় দায়ের করা মামলায় ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনের বাইরে দেওয়া তাঁর ভাষণটি বিবিসি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে, বিদ্বেষপূর্ণভাবে ও প্রতারণামূলকভাবে’ সম্পাদনা করেছে। সম্প্রচারে বক্তব্যের দুটি আলাদা অংশ জুড়ে দেওয়ায় দর্শকদের কাছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তিনি সরাসরি সহিংস কর্মকাণ্ডের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুল সম্পাদনার জন্য ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছে বিবিসি। সম্প্রচারটির কারণে ট্রাম্প সরাসরি সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছিলেন—এমন ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে বিবিসি মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, অনুষ্ঠানটি মানহানির অভিযোগ প্রমাণের আইনি শর্ত পূরণ করে না এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচারিতও হয়নি।
গত জুলাইয়ে ট্রাম্পের আইনজীবীরা স্বীকার করেন, বিবিসির সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্রিটবক্স পরিষেবা, বিবিসির ওয়েবসাইট, বিবিসি সিলেক্ট কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্প্রচারমাধ্যমে তথ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে তাঁদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
এদিকে, বিবিসি যুক্তি দেয়, তথ্যচিত্রটি তৈরি বা প্রযোজনার সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক শাখা বিবিসি স্টুডিওজের কোনো ভূমিকা ছিল না। পরে ট্রাম্প বিবিসি স্টুডিওজের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহার করতে সম্মত হন। তবে বিবিসির বিরুদ্ধে মূল মানহানির মামলাটি এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।