নাটোর জেলার গুরুদাসপুরে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী। বিশেষ করে গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা রয়েছেন বেশি দুশ্চিন্তায়। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের গবাদিপশু ও সম্পদ রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
সন্ধ্যা নামার পর থেকেই গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে অবস্থান নিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী পাহারাদাররা। রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত পালাক্রমে চলে তাদের এ কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া নদীর উত্তর সাহাপুর, শিকারপুর খেয়াঘাট থেকে বাহাদুরপাড়া রাজা মণ্ডলের খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকা এবং খুবজীপুর ইউনিয়নের চরপিপলা গ্রামে সম্প্রতি গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গবাদিপশু পালনকারী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা।
এ অবস্থায় নিজেদের সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তিন গ্রামের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার থেকে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন তারা। এ কার্যক্রমের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় আনসার কমান্ডার আলিউল্লাহকে।
গ্রামবাসী জানায়, আনসার কমান্ডার আলিউল্লাহর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন গ্রামের মোট ৪২ জন স্বেচ্ছাসেবী এ পাহারা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিরাতে ছয়জন করে পালাক্রমে রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন তারা। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এ উদ্যোগ।
পাহারাদারদের খাবারের ব্যবস্থাও করছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাল, ডাল, মরিচসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রামবাসীও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।
আনসার কমান্ডার আলিউল্লাহ বলেন, আনসার প্রশিক্ষণের সময় গ্রামের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশিক্ষণ পেয়েছি। এখন সেই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে গ্রামের মানুষের জানমাল ও গোয়ালের গরু রক্ষায় কাজ করছি।
এক রাতেই ৬ গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষকরা