সালাহ-জাদুতে ভাঙল ‘হার্টের’ হৃদয় 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ পিএম

এই গ্রীষ্মেই অ্যানফিল্ডের লাল জার্সি ছেড়ে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরে যোগ দিয়েছিলেন মোহামেদ সালাহ। অনেকের ধারণা ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগজয়ী এই মিসরীয় ফরোয়ার্ডের সেরা সময় হয়তো অতীত। তবে উয়েফা কনফারেন্স লিগের মঞ্চে স্কটিশ ক্লাব হার্ট অব মিডলোথিয়ানের বিপক্ষে নিজের চিরচেনা ফুটবল শৈলী দেখিয়ে প্রমাণ করলেন, জার্সি বদলালেও তাঁর পায়ের জাদু ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো যেন আগের মতোই আছে। 

বৃহস্পতিবার রাতের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানের জয়ে একটি দারুণ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে অন্য গোলটি করিয়েছেন সালাহ। আর এর মধ্য দিয়েই ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো উয়েফা প্রতিযোগিতার মূল পর্বে টানা দুই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল তুর্কি জায়ান্টরা। 

খেলোয়াড়দের চোট আর আগের ম্যাচে সেল্টিকের কাছে ৭-১ গোলের ধাক্কা সামলে উঠতে হার্টসের কোচ উইটার ভ্রাঙ্কেন এক অভিনব ছক এঁকেছিলেন। উইঙ্গার রজার্স মাটোকে বাম পাশের ফুলব্যাক পজিশনে এনে সালাহকে পাহারা দেওয়ার গুরুদায়িত্ব দেন। শুরুতেই হার্টসের মালাচি ফাগান-ওয়ালকাটের একটি হেডার পোস্টে লেগে ফিরে এলে রক্ষা পায় ট্রাবজনস্পোর। তবে প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের আধিপত্য নিজেদের হাতে তুলে নেয় কোচ টমাস রাইসের দল। 

ম্যাচের বয়স যখন আধা ঘণ্টা পার হয়, তখন বক্সের ভেতর ফ্রেঙ্কুলিনো জুকে ফাউল করে বসে স্বাগতিক ডিফেন্ডাররা। পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত শটে ট্রাবজনস্পোরের হয়ে নিজের ১০ম গোলটি তুলে নেন মিসরীয় জাদুকর।

প্রথম অর্ধে পজিশন বদলে খেলা উইঙ্গার রজার্স মাটোর ট্যাকটিক্যাল পাহারায় সালাহকে কিছুটা চুপচাপ মনে হলেও, বড় তারকারা যে কেবল এক মুহূর্তের সুযোগেই ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন তা প্রমাণ হলো ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে। এক ঘণ্টার কোটা ছোঁয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ফ্রেঙ্কুলিনোর সঙ্গে চমৎকার এক ‘ওয়ান-টু’ পাসের আদান-প্রদান করেন সালাহ। হার্টসের ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে সালাহর বাড়ানো মাপা পাসে বল পেয়ে বাঁকানো শটে দলের দ্বিতীয় ও জয় নিশ্চিতের গোলটি করেন গিনি-বিসাউয়ের এই ফরোয়ার্ড। সালাহর এই এক সেকেন্ডের ঝিলিকই মূলত স্কটিশ ক্লাবটির ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা শেষ করে দেয়।

এমন পরাজয় সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের বিশ্বমানের তারকাদের বিপক্ষে নিজেদের দলগত মানসিকতা ও লড়াইয়ের প্রশংসা করতে ভুল করেননি হার্টসের কোচ। ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ উইটার ভ্রাঙ্কেন বলেন, ‘এমন ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্কিলের ক্লাবের বিপক্ষে আজ সত্যি একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে খেলেছে আমার ছেলেরা। তাদের এই পারফরম্যান্সে আমি ভীষণ গর্বিত।’ 

পজিশন বদলে সালাহর বিপক্ষে উইঙ্গার মাটোকে নামানোর সাহসী সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্রাঙ্কেন আরও যোগ করেন, ‘আমি জানতাম ও গতির সাথে টেক্কা দিতে পারবে। আর মনোযোগ ধরে রাখলে ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে ও যথেষ্ট শক্তিশালী। এই কৌশল কাজ করায় আমি খুশি; কারণ সালাহ যদি দুই-তিনটি গোল করে বসত, তবে সবাই বলত সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।’ 

এদিকে এই টানা জয়ে ভর করে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের দুর্দান্ত রেকর্ড গড়ল তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পোর। ঘরোয়া লিগে পয়েন্ট টেবিলে গালতাসারাইয়ের ঠিক পেছনেই ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে অবস্থান করছে দলটি। সালাহর আক্রমণাত্মক উপস্থিতি তাদের শক্তি কতটা বাড়িয়েছে, ইউরোপিয়ান মঞ্চের এই টানা জয়ই তার বড় প্রমাণ। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত