স্মিথের ক্যাচ ড্রামা: কেন উল্টো দিকে তাকিয়ে ছিলেন বাভুমা?

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

আকাশে উঁচুতে ওঠা বল, ম্যাথু ব্রিটজকের ক্যাচ ধরার আকুল চেষ্টা আর সেসময় স্নায়ুচাপে অধিনায়কের উল্টো দিকে তাকিয়ে থাকা—কেবেরহা টেস্টের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্য সম্ভবত এটিই, স্টিভ স্মিথের উইকেটের এই ক্যাচ ড্রামা। হ্যাঁ, খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলা টেম্বা বাভুমা সেঞ্চুরি পেরোনো ইনিংসটাও রোমাঞ্চের কম যায় না, কিন্ত উল্টো দিকে তাকিয়ে থাকারও কাণ্ডটাও যে তারই। 

স্টিভ স্মিথের সেই মহামূল্যবান উইকেটের দিকে চোখ রাখার মতো সাহস না পেলেও, মাঠের লড়াইয়ে স্টার্ক-কামিন্সদের চোখে চোখ রেখে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে টেম্বা বাভুমা আর তার দল। ২১ বছর পর অজিদের ফলো-অনে ফেলে পাওয়া ইনিংস ও ৩১ রানের এই অবিশ্বাস্য জয়ে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতায় ফেরায় প্রোটিয়ারা।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে একাই টেনে তোলেন বাভুমা। নিজের ক্যারিয়ারসেরা ১৭৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৪২৫ রানের পাহাড়ে নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে মারকো ইয়ানসেন (৫/৩৩) ও কাগিসো রাবাদার (৪/৭৭) তোপে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২১ বছর পর দেশের মাটিতে অজিদের ফলো-অনে পাঠায় প্রোটিয়ারা। সেখানে স্টিভ স্মিথের বিষাদময় বিদায় আর ট্রাভিস হেডের ১২১ রানের লড়াই সত্ত্বেও ২৯৫ রানে গুটিয়ে যায় অজিদের দ্বিতীয় ইনিংস। ৩ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতায়।

গল্পটা ফের আটকে গেল সেখানেই। উল্টো দিকে কেনই বা তাকালেন বাভুমা আর তাকিয়ে কি-ই বা ভাবছিলেন? মাঠে সেই মুহূর্তে ক্যাচের দিকে না তাকিয়ে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডারবান টেস্টের লজ্জা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর রোমাঞ্চ ফুটে উঠেছে অধিনায়ক বাভুমার কণ্ঠে।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তে আমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। সেন্ট জর্জেস পার্কে বাতাসে উঁচুতে ওঠা ক্যাচ ধরাটা বেশ কঠিন। ক্যাচটি ধরার জন্য নিচে ঠিক কে ছিল তা আমি দেখতে পাইনি, তবে এমনটা নয় যে ওই খেলোয়াড়ের ওপর আমার আস্থা ছিল না। মূলত আবেগ আমার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিল।’ 

পুরো টেস্ট ম্যাচজুড়ে দল যেভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতি উতরেছে, তার ভেতরে যে দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতির গল্প ছিল, সেটিও প্রকাশ্যে এনেছেন বাভুমা। ডারবানের ভরাডুবির পর মানসিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর মাঠেই দিয়েছে তাঁর দল। 

এছাড়া দলের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের রসায়ন তুলে ধরে প্রোটিয়া দলপতি জানান, ‘এটি আমাদের পক্ষ থেকে একটি প্রাণবন্ত প্রচেষ্টা ছিল। ডারবানে প্রথম টেস্টের পর আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করা হয়েছিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ছিল দলের চরিত্র বা মানসিকতা নিয়ে। গবেরহাতে পাঁচ দিন ধরে আমরা সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছি। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিক থেকেই যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল, তখন আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। লড়াইয়ে টিকে থেকেছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পেরেছি।’ 

ব্যাট হাতে নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার পাশাপাশি বল হাতে উইয়ান মুল্ডারের গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রুগুলোও গড়ে দিয়েছে এই জয়ের ভিত্তি। প্রতিকূল সময়ে দলের অদম্য আত্মবিশ্বাসের শক্ত ভিত কীভাবে তৈরি হয়েছে, তাতে আরও জোর দিয়ে বাভুমা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলোচনাটাই হলো আপনি কতটা সেরা হতে পারেন। যখন মিডিয়ার মুখোমুখি হবেন, তখন মুখে একটা ইস্পাতকঠিন ভাব ধরে রাখার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু যখন রুমে একা থাকবেন, তখন তো আর নিজের কাছে মিথ্যা বলতে পারবেন না। আমরা এই পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাসটুকু সঙ্গে নিয়ে যাব এবং এর সঠিক যত্ন নেব।’ 

এই জয়ে নিউল্যান্ডসে অনুষ্ঠেয় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টটি হয়ে উঠেছে সিরিজ নির্ধারণী মহারণ। আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে সেই ম্যাচটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত