ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজারে এখন চলছে ড্রাগন ফলের জমজমাট বেচাকেনা। ড্রাগনের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এই বাজারে প্রতিদিন শতাধিক আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার ফল। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই ড্রাগন চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
স্থানীয়রা জানান, গৌরীনাথপুর বাজারে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন। সকাল থেকেই শুরু হয় বেচাকেনা। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রতিটি আড়তে বাহারি রঙের চোখ জুড়ানো সুস্বাদু ড্রাগন ফল থরে থরে সাজানো থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের এই সময় প্রতিদিনই কোটি টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এ ফল পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য নিজ জেলায় বড় বাজার থাকায় ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় খুশি এখানকার কৃষকরা।
কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আগে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ফসল চাষ করতাম। এখন ড্রাগন ফলের চাহিদা ও বাজার ভালো থাকায় এ চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ড্রাগন চাষ করে আমরা ভালো লাভের আশা করছি। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও জমি পরিচর্যার খরচও বেড়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষকরা আরও বেশি ড্রাগন চাষে উৎসাহিত হবেন।’
কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, ঝিনাইদহের ড্রাগন ফল এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা, উন্নত জাতের চারা এবং বাজারজাতকরণের ভালো ব্যবস্থা থাকলে ড্রাগন চাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করতে পারে।
ক্রেতা বাবুল হোসেন বলেন, ‘আজ বাগান থেকে একদম তাজা ফল কিনে নিয়ে গেলাম। ফলগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, ভেতরে লাল টুকটুকে আর মিষ্টি। আমার পরিবারের সবাই ড্রাগন ফলের জুস পছন্দ করে। এছাড়া স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এটা অনেক ভালো। সতেজ ও রাসায়নিকমুক্ত ফল খাওয়ার মজাই আলাদা।’
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, ঝিনাইদহে ড্রাগন ফলের চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ড্রাগন ফল কেনাবেচা হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ড্রাগন চাষে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের চারা ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ফলন ও কৃষকের আয় আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের ড্রাগন চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এ বিষয়ে তারা নজর রাখছেন, পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায়ও কাজ করছেন তারা।