বক্স অফিসে ব্যর্থ টম ক্রুজের ‘ডিগার’

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

হলিউডের তারকা টম ক্রুজ একজন জনপ্রিয়, প্রভাবশালী-বহুমুখী অভিনেতা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক। বিভিন্ন ব্লকবাস্টার অ্যাকশন সিনেমায় ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত রয়েছে তার। তাই তার অভিনয় করা সিনেমা নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা থাকে অনেক। তবে এবার তা অভিনীত ‘ডিগার’ বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু পরিচালিত সিনেমাটির নির্মাণ ও প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও আয় হয়েছে তুলনামূলকভাবে সামান্য। সমালোচকেরা মনে করছেন, এই ব্যর্থতার পেছনে সম্ভাব্য পাঁচটি কারণ রয়েছে।

আমেরিকান দৈনিক বিনোদন বিষয়ক ম্যাগাজিন ভ্যারাইটি ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেমাটি থেকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে প্রকৃত লোকসান নির্ভর করবে বিশ্বব্যাপী আয়, প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের হিসাবের ওপর।

সিনেমাটির বাণিজ্যিক ব্যর্থতার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হলো বিশাল নির্মাণ ও প্রচারণা ব্যয়। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, ‘ডিগার’ নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার। এর সঙ্গে প্রচারণা ও বিপণনে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলারে।

এত বিপুল বিনিয়োগের অর্থ তুলে মুনাফার মুখ দেখতে হলে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে সিনেমাটিকে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলার আয় করতে হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মুক্তির পর প্রত্যাশিত দর্শক সাড়া ও টিকিট বিক্রি না হওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে টম ক্রুজের মতো বিশ্বখ্যাত তারকা এবং খ্যাতিমান নির্মাতার সমন্বয় থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটির বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে সিনেমাটি মাত্র ৮০ লাখ ডলার আয় করতে পেরেছে। তবে এই ব্যর্থতা হিসেবে প্রচারণা কৌশলে সিনেমার মূল গল্প ও ঘরানা সাধারণ দর্শকের কাছে স্পষ্ট করা যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ট্রেলার দেখে দর্শক বিভ্রান্ত হন-এটি কোনো অ্যাকশন থ্রিলার, নাকি রাজনৈতিক ড্রামা। টম ক্রুজের প্রচলিত জনপ্রিয় ঘরানার সঙ্গে উপস্থাপনার অমিল দর্শকের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করে।

‘মিশন: ইমপসিবল’ বা ‘টপ গান’-এর মতো মারকাটারি অ্যাকশনের বদলে ‘ডিগার’ মূলত একটি অদ্ভুত ও ডার্ক পলিটিক্যাল স্যাটায়ার (গাঢ় রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ছবি)। এতে তিনি ‘ডিগার রকওয়েল’ নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেখানে প্রস্থেটিক মেকআপের মাধ্যমে তার চেহারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। ব্যতিক্রমী অভিনয়ের প্রয়াস প্রশংসিত হলেও টম ক্রুজের কাছ থেকে নিখাদ বিনোদন প্রত্যাশী মূলধারার দর্শকদের ছবিটি আকর্ষণ করতে পারেনি।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নেতিবাচক ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’: মুক্তির পর সমালোচক ও দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে সিনেমাটি। সিনেমাস্কোরে এর রেটিং নেমে আসে ‘সি প্লাস’-এ, যদিও আইএমডিবিতে রেটিং রয়েছে ৭ দশমিক ৫। বড় বাজেটের ছবির ক্ষেত্রে সাধারণ দর্শকের ইতিবাচক সুপারিশ বা ‘ওয়ার্ড অব মাউথ’ অত্যন্ত জরুরি হলেও ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত